0

images1রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : শিশু রাজন হত্যাচুরির মিথ্যা অপবাদে শিশুটিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর দেশব্যাপী উঠেছিল নিন্দার ঝড়। উঠেছিল দ্রুত বিচারের দাবি। আর এর পরপরই শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার শোকাহত পরিবারকে আশ্বাসও দেন অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। আবার, পুলিশের গাফিলতিতে পালিয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবে আটক হওয়া মূল হোতা কামরুলকেও দ্রুত ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এ হত্যাকাণ্ডের ২৫ দিন পরও এর দ্রুত বিচার গতকাল রোববার পর্যন্ত আটকে ছিল মন্ত্রীদের আশ্বাসের মধ্যেই। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের শিকার সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের (১৪) হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের তদন্তের ঢিমেতালে ও কামরুলকে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ চোখে না পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সামিউলের মা-বাবা ও এলাকাবাসী। বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান ও সামিউলের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামিউল হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত করার আশ্বাস মিললেও গত তিন সপ্তাহে তদন্তকাজ গোছাতেই পারেনি সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ছাড়া ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে করা হয়নি কোনো বিভাগীয় মামলাও। তবে পুলিশ দাবি করছে, তদন্তকাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে তারা। খুব শিগগির আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করার প্রস্তুতি চলছে। আর তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা ও কামরুলকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও রয়েছে প্রক্রিয়াধীন। এ অবস্থায় অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সামিউলের বাবা আজিজুর রহমান। গতকাল দুপুরে সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকার বাদেয়ালি গ্রামে তাঁর বাড়িতে গেলে এ অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, ‘সবাই বলেছিলেন—তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ হবে। এর মধ্যে এক মাস তো হতেই চলল। কিন্তু বিচারই শুরু হলো না। আমরা চাই দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হোক। কামরুলকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। তা না হলে সামিউলের আত্মা শান্তি পাবে না, আমরা শান্তি পাব না।’ সবজিবিক্রেতা শিশু সামিউলকে গত ৮ জুলাই চোর অপবাদে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনার তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ডিবি পুলিশ জানায়, ওই ঘটনায় করা মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন ১২ জন। এ ছাড়া পালিয়ে সৌদিতে গিয়ে ধরা পড়েছেন ঘটনার মূল হোতা কামরুল ইসলাম। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আটজনকে জনতাই ধরে পুলিশে দেয়। আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচজন ও প্রত্যক্ষদর্শী তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ২০ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে আটজন এই জবানবন্দি দেন। ২০ জুলাই আসামি হিসেবে প্রথমে জবানবন্দি দেন কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডের চৌকিদার ময়না মিয়া ওরফে বড় ময়না। ২৮ জুলাই দেন প্রত্যক্ষদর্শী আয়াজ আলী। আদালতে আটজনের দেওয়া জবানবন্দি প্রায় অভিন্ন হওয়ায় তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই তদন্তকাজ দ্রুত হবে বলে জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, ‘এখনো কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হননি। এদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টার পাশাপাশি অভিযোগপত্র লেখার কাজ চলছে। শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’ ওদিকে সামিউল হত্যাকাণ্ডে গাফিলতির অভিযোগে গত ২৭ জুলাই সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার তৎকালীন ওসি-তদন্ত (পরিদর্শক) আলমগীর হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি বর্তমানে রংপুর পুলিশ রেঞ্জে সংযুক্ত রয়েছেন। একই অভিযোগে ২৪ জুলাই বরখাস্ত করা হন জালালাবাদ থানার উপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম ও মো. জাকির হোসেন। তাঁরা সিলেট পুলিশ লাইনসে রয়েছেন। বিধি অনুযায়ী এ তিনজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কথা থাকলেও এখনো তাঁদের বিরুদ্ধে তা করা হয়নি। মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘খুব দ্রুত অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে।’ এ ছাড়া কামরুলকে ফেরত আনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও পুলিশের হেডকোয়ার্টার তাঁকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করছে।’ এখনো আপসরফার প্রস্তাব: এখনো ঘটনা আপসে নিষ্পত্তির জন্য প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সামিউলের বাবা আজিজুর রহমান। তিনি জানান, সামিউলকে মেরে ফেলার পরপরই আপসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাব এখনো আসামিদের আত্মীয়স্বজনের পক্ষে নাম না জানা লোকজনের মাধ্যমে তিনি পাচ্ছেন। এ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তিনি। জানতে চাইলে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন বলেন, নিরাপত্তাহীনতা বিবেচনা করে সামিউলের বাড়িতে গত ২২ জুলাই থেকে রাতে পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেউ কোনো ধরনের আপস প্রস্তাব বা হুমকি দিলে জানানো মাত্র পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। – প্রথম আলো


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top