রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : মৌলভীবাজারের রাজনগরে অবস্থিত কাউয়াদীঘি হাওর এলাকায় জলাবদ্ধতায় ১৩৫ হেক্টর জমির আউস ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের ২৫ হেক্টর বীজতলাও। মনু সেচ প্রকল্প এলাকায় পানি প্রবাহের গতি কম হওয়ায় রাজনগর উপজেলার ৪ ইউনিয়নের কৃষকরা উফশী জাতের চারা লাগানোর সময় পাবেন না এ মওসুমে। তবে বিকল্প জাতের চারা লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে স্থানীয় কৃষিসম্প্রসারণ বিভাগ থেকে। সম্প্রতি অব্যাহত বৃষ্টিপাতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাওরে পানি বৃদ্ধি পায়। নিম্নাঞ্চলের ক্ষেতের জমি বিশেষত আউস ও আমন ধানের জমি ও বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যায়। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাউয়াদীঘি এলাকায় মনু সেচ প্রকল্পের আওতাধীন রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও, ফতেপুর, উত্তরভাগ ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে কাউয়াদীঘি এলাকায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় উপরোক্ত চার ইউনিয়নের ১৩৫ হেক্টর রোপা আউস এবং ২৫ হেক্টর আমনের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এদিকে কাউয়াদীঘি এলাকায় ঘেরা বাঁধ থাকায় এ পানি বের করার একমাত্র মাধ্যম মনু সেচ প্রকল্পের কাশেমপুর পাম্প হাউসের ৮টি পাম্প। এ পাম্পের মাধ্যমে হাওরের পানি বের করে দিয়ে কৃষকের ফসল ক্ষতিমুক্ত রাখার কথা থাকলেও বিদ্যুতের কারণে প্রায়ই পাম্পগুলো বন্ধ থাকে। কৃষকদের অভিযোগ, শুধু বিদ্যুত নয়, কোনো কোনো সময় পাম্প হাউস সংশ্লিষ্টরা নানা কারণে জলমহাল ইজারাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে হাওরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে থাকে। তবে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যুত থাকা না থাকাকেই দায়ী করেন। এ বিষয়ে পাঁচগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মিহির কান্তি দাশ মঞ্জু জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানির নিচে চলে গেছে সিংহভাগ জমি। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। কোনো কোনো এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। পাম্প হাউসের পাম্প চালু থাকলে হাওরপাড়ের কৃষকদের এমন দুর্দশায় পড়তে হতো না। এতোদিনে ক্ষেতের জমি চাষ উপযোগী হয়ে যেতো এবং জমিতে চারা লাগাতে পারতো। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা শেখ আবদুল আজিজ জানান, সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে কাউয়াদীঘি হাওরের কাশেমপুর পাম্প হাউসে দেখেছেন ৬টি পাম্প চালু আছে। সবক’টি পাম্প চালু রাখতে যে পরিমাণ ভোল্টেজের দরকার, সেখানে তা নেই। তাই পানি কমতে দেরি হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া এ জমির পানি নামতে যে সময় লাগবে এ সময়ে কৃষকরা এ জমিতে উফশী জাতের ধানের চারা লাগাতে সময় পাবেন না। তাই কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে এসব জমিতে স্থানীয় জাত বা বিআর-২২, ২৩ এবং বীণা-৭ চারা তৈরি করে লাগাতে। এতে কৃষকরা ফলন পাবেন। মৌলভীবাজার খামারবাড়ি কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল কালাম চৌধুরী জানান, গত শুক্রবার কাশেমপুর পাম্প হাউস পরিদর্শন করে দেখেছেন ৬টি পাম্প চালু করা হয়েছে। হাওরের পানি ৪ ইঞ্চির মতো কমেছে। ৮টি পাম্প চালু হলে আরও দ্রুত পানি কমবে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook