0

NID_BDরিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক :  পুরুষের জাতীয় পরিচয়পত্রে কেবল বাবা ও মায়ের নাম। বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে বসে স্বামীর নাম। বিবাহ বিচ্ছেদ হলে অথবা স্বামীর নাম পরিবর্তন করতে চাইলে নারীর পরিচয়পত্র নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হতো নির্বাচন কমিশনকেই।  এ ঝামেলায় আর যেতে রাজি নয় নির্বাচন কমিশন। তাই সিদ্ধান্ত, স্বামীর নাম বাদ। স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রে বিবাহিত নারীর পাশে থাকবে কেবল তাঁর বাবা ও মায়ের নাম।  সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে প্রচলিত জাতীয় পরিচয়পত্রের থেকে কিছু তথ্য পরিবর্তন করে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নকশা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।  জানা গেছে ওই নকশায় বিবাহিত নারীর নামের পাশে স্বামীর নাম থাকছে না। পুরুষ ও নারী সবার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রেই থাকবে বাবা ও মায়ের নাম। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, নাগরিকের ভোগান্তি কমানোর জন্যই স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে স্বামীর নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  কারণ অনেকেই মনের অমিল বা বিভিন্ন কারণে বিবাহবিচ্ছেদ হলে তাঁদের নতুন জীবন শুরু হয়। কিন্তু বিবাহিত মহিলারা এ নিয়ে পড়েন বিপাকে। আর এই সমস্যাটা ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হওয়া থেকেই। আর বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই এটি সংশোধন করতে গেলে তাদের পোহাতে হয় না না ঝামেলা।  জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম থাকত এবং সেটি পরিবর্তন করতে গেলেও অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। এসব দিক বিবেচনা করে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে স্বামীর নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।  এ ব্যাপারে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দীন বলেন, ‘বিবাহ বিচ্ছেদ হলে জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে স্বামীর নাম বাদ দিতে গেলে অনেক সমস্যা হয়।  তাই কমিশন জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে স্বামীর নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি নির্ভুল স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেওয়ার লক্ষে কাজ করছি।’  নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, অত্যাধুনিক এ পরিচয়পত্রে নাগরিকের ৪৭টি তথ্য পাঠযোগ্য ক্ষুদ্র ‘চিপে’ সংরক্ষণ করা হবে। এতে থাকছে সেবা গ্রহণ ও প্রদানে সঠিক নাগরিক শনাক্তকরণ, সঠিক ব্যক্তির সঠিক সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, আঙ্গুলের ছাপের মাধ্যমে চিহ্নিতকরণ সুবিধা, তিন স্তরে ২৫টির বেশি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি।  এ ছাড়া যেসব কাজে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যাবে সেগুলো হলো- আয়করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি, গাড়ি চালানোর লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন, পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও নবায়ন, চাকরির জন্য আবেদন, স্থাবর সম্পত্তি ক্রয় ও বিক্রয়, ব্যাংক হিসাব খোলা ও ঋণপ্রাপ্তি,  সরকারি বিভিন্ন ভাতা উত্তোলন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, শেয়ার আবেদন ও বিও অ্যাকাউন্ট খোলা, ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রেশন, ই-ফরম পূরণে নাগরিকের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোজন ইত্যাদি।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top