0

Bangladesh_Team_lg20150716183635স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর টাইগারদের প্রশংসা এখন বিশ্বব্যাপী। বিশ্বের সকল ক্রিকেটবোদ্ধারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স দেখে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন। টাইগারদের এমন উন্নতি আর তাক লাগানো পারফরমেন্সে আবারো মুগ্ধ করেছে গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। তাই কদিন আগেও সমালোচনা করা ভারতের অন্যতম জাতীয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকাও চুপ করে বসে থাকতে পারেনি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলাতে হয়েছে টাইগার বন্দনায়। পাঠকদের জন্য আনন্দবাজারে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হুবুহু দেয়া হলো…   বছর পাঁচেক আগেও কথাটা বললে, নিঃসন্দেহে লোকে আপনাকে বদ্ধ উন্মাদ না হলে ক্রিকেট নির্বোধ উপাধিতে ভূষিত করত। ক্রিকেট মানচিত্রে বাংলাদেশ মানে তখনও ছিল রেকর্ডের দেশ এবং শেষোক্ত শব্দ জোড়া মোটেও সম্মানার্থে ক্রিকেটে মহাশক্তিদের টেবিলে ব্যবহৃত হত না। সমীকরণটা সহজ। পদ্মাপারে যাও, অফ ফর্মে থাকা ব্যাটসম্যানদের একটু বাইশ গজে ফূর্তি-টুর্তির সুযোগ করে দাও। রেকর্ডের পর রেকর্ড করো, আর সিরিজটা যথা সামান্য শক্তি খরচ করে জিতে ফিরে এসো। ২০০৭-র বিশ্বকাপে ভারত বধকে তখনও ধরা হত অঘটন। এ দিক ও দিক হঠাৎ হঠাৎ বিশ্ব ক্রিকেটের ‘বড়দাদাদের’ পেড়ে ফেলার কীর্তিকে দেখা হত করুণার চোখে। যেন বরাবরের লাস্ট বেঞ্চের হঠাৎই ইউনিট টেস্টের একটা পেপারে ভাল করে ফেলা। টেস্ট খেলিয়ে দেশ হিসাবে বাংলাদেশের পরিচিতিটা নামেই ছিল শুধু। আসল টেস্ট খেলিয়ে দেশের মর্যাদার সিড়িতে কখনও উঠতে দেওয়া হয়নি।   বুধবার রাতেও চট্টগ্রামে আফ্রিকার ক্রিকেট ঐশ্বর্যের সর্বস্ব লুন্ঠনের পর বাংলাদেশ জনতার নিশ্চিত সমালোচকদের সেই পুরনো মুখগুলো দেখতে ইচ্ছে করছে। নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা-এই নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ার পাঁচ উচ্চ বিত্ত দেশকে ধুয়ে মুছে দেওয়ার পর ইচ্ছে হওয়াটা অন্যায্য নয়। কোনও নায়কের আবির্ভাবের সিনেমা হিট হয়ে যদি পরের গুলো ফ্লপ দিতে থাকে তাকে ওয়ান ফিল্ম ওয়ান্ডার বলা যেতে পারে। কিন্তু পরের পর সিনেমা হিট করতে থাকতে সে নিজেই ওয়ান্ডার হিসাবে বিবেচিত হয়। মহা প্রতিদ্বন্দ্বীদের এক আধ বার হারিয়ে দিলে তাকে জায়ান্ট কিলার বলা চলে। কিন্তু সেটা বারবার ঘটতে থাকতে তাকেই সাক্ষাৎ জায়ান্ট হিসেবে মেনে নিতে হয়। বুধবার রাতের পর বোধ হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও এই তুলনা গুলোই প্রযোজ্য।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top