রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : কিশোর সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবে ৩২ পৃষ্ঠার একটি ফাইল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ফাইলে ‘গাফিলতি ও অনিয়মের’ দায়ে বরখাস্ত পুলিশের এসআই আমিনুলের দায়ের করা এজাহারের একটি কপিও রয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার সব-সাক্ষ্যপ্রমাণ, আসামিদের স্বীকারোক্তি ও রাজনের বাবার দায়ের করা এজাহারে যেখানে, ‘রাজন চোর ছিল না’ বলে বক্তব্য এসেছে, সেখানে অভিযুক্ত পুলিশের এজাহার পাঠানোর ব্যাপারে বিস্মিত সকলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি থেকে কামরুলকে দেশে আনতে এমনিতেই আইনি জটিলতা রয়েছে। ফাইলের সাথে পুলিশের দায়ের করা এজহারের ফলে সেটি আরও জটিল হতে পারে। তাদের বক্তব্য, সৌদি আইনে চুরির কঠোর শাস্তি রয়েছে। এছাড়া একজন নিরপরাধ শিশুকে হত্যার কারণে, কামরুলকে বিচারের মুখোমুখি করতে সৌদি প্রশাসন যে ধরণের মানবিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহবোধ করত; চোর আখ্যায়িত এজাহারের কারণে সেই সুযোগ বাধা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে আটক কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে সে দেশের সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবের সঙ্গে মামলার এজাহার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশের কপিসহ কোন আইনে কামরুলের বিচার করা হতে পারে, সে-সংক্রান্ত ৩২ পৃষ্ঠার একটি ফাইল পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে সামিউল হত্যার বিচার করা হবে উল্লেখ করে, সামিউল হত্যার আসামি কামরুলকে ফিরিয়ে দিতে সৌদি সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার সূত্র বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি না থাকলেও কামরুলকে ফিরিয়ে আনতে সে দেশে পূর্ণাঙ্গ বহিঃসমর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। চুক্তি না থাকায় কামরুলকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ অনুরোধ জানাবে। অন্য কোনো আইনে তাঁকে ফেরত পাঠাতে পারে। সৌদি সরকার চাইলে কামরুলকে পুশব্যাকও করতে পারে অথবা তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে পারে৷ সিলেটে মহানগরের জালালাবাদ থানার (বরখাস্ত) উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের দায়ের করা এজাহারে সামিউলের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ৮ জুলাই ভোর ছয়টায় ভ্যানগাড়ি চুরি করার সময় ওই ওয়ার্কশপের নিরাপত্তা প্রহরী ময়না মিয়া আশপাশের ওয়ার্কশপের লোকজনকে নিয়ে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তিকে (সামিউল) মারধর করে গুরুতর আহত করেন ও পরে ওই ব্যক্তি মারা যায়। তবে সামিউলের বাবা আজিজুর রহমান আলমের দায়ের করা এজাহারে ঘটনাটি স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতেও মূল কাহিনি প্রকাশ হয়েছে। এতসবরে পরও অভিযুক্ত পুলিশের এজাহারটি কেন পাঠানো হল, এই বিস্ময়জিজ্ঞাসার উত্তর কিছুতেই মিলছে না। অভিযুক্ত পুলিশের এজাহার পাঠানোর বিষয় উল্লেখ করে শুক্রবার বিকেলে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আপনার এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারব না। এর আগে কামরুলকে ফিরি আনার বিষয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে। তারা কাগজপত্র সৌদিতে পাঠিয়েছে। কামরুলকে কবে নাগাদ কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এরও স্পষ্ট কোনো উত্তর নেই। পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর। আদৌ তাকে ফেরানো যাবে কি না, এ নিয়েও অনেকের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তবে সরকার জোর দিয়েই বলছে, তাকে দেশে ফেরানো হবে। এজন্যে সবধরণের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। ১৮ জুলাই সিলেটের সদর উপজেলার বাদেয়ালি গ্রামে সামিউলের বাড়িতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ২০ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, অচিরেই কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ২২ জুলাই সামিউলের গ্রামে গিয়েও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সৌদি আরব থেকে কামরুলকে দেশে ফেরাতে তৎপরতা চলছে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook