0

4.-senaরিপোর্টার্স বিডি ডট কম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সামর্থ্যকে বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে দাবি করে বলেন, ‘এরআগে কোনো সরকার সেনাবাহিনীর জন্য এত উন্নয়ন করেনি”। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যে কোনো ধরণের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।’ রোববার সেনা সদর কনফারেন্স কক্ষে ‘সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০১৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তাদের পদোন্নতির বিষয়ে বিশেষ বিবেচনার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করে সামরিক বাহিনীর উন্নয়নে কাজ শুরু করি। সেনাবাহিনীতে ফোর্সেস গোল-২০৩০ এর বাস্তবায়ন অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা সেনাবাহিনীকে আরো যুগোপযোগী করতে অত্যাধুনিক মেইন ব্যাটেল ট্যাংক, সেলফ প্রোপেল্ড গান সিস্টেম, রাডার, এন্টি ট্যাংক গাইডেড উইপন মাল্টিপল লঞ্চড রকেট সিস্টেম, আর্মাড পার্সোনেল ক্যারিয়ার, ইউটিলিটি বিমান ছাড়াও সিগন্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের জন্য সরঞ্জামাদি কিনেছি। তিনি আরো বলেন, রাশিয়ান ফেডারেশনের ১ বিলিয়ন ডলার সামরিক ঋণ প্রটোকলের আওতায় ৬টি এমআই-১৭১ হেলিকপ্টার, ৩৩০ টি এপিসি এবং ১০টি আর্মাড রিকভারি ভেহিকেল ক্রয় চুক্তিও সম্পাদন করা হয়েছে। আরো দুটি এমএলআরএস ব্যাটারি ২০১৬ সালের মধ্যে সেনাবাহিনীতে সংযোজন করা হবে। এর মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ এমএলআরএস রেজিমেন্ট সাভার সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠান লাভ করবে। ২০১৭ সালের মধ্যে ২টি এফএম-৯০, সার্ফেস টু এয়ার মিজাইল রেজিমেন্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সংযোজিত হবে। এর মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরো পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। সেনাবাহিনীর আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন বাসস্থান ও অফিসার মেস নির্মাণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহুতল ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, আমরা রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করেছি। বান্দরবানের রুমায় পূর্ণাঙ্গ সেনানিবাস স্থাপনের নীতিগত অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। রানা প্লাজা ধসে উদ্ধার অভিযান, পরবর্তী সময়ে ফ্লাইওভার ব্রিজ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার কাজসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মুহূর্তে সেনাবাহিনী তাৎপর্যমূলক ভূমিকা পালন করায় প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। অধীনস্ত সৈনিকদের সঙ্গে সেনা অফিসারদের সম্পর্ক কেমন হবে সেই প্রসঙ্গে ১৯৭৫ সালে ১১ জানুয়ারি সামরিক একাডেমিতে প্রথম ব্যাচের অফিসারদের উদ্দেশ্যে দেয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কথা স্মরণ করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ের অংশীদার সেনাবাহিনী। সেনা সদস্যরা সর্বোচ্চ দেশপ্রেম ও কর্তব্যপরায়ণতা দিয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top