রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : : প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে প্রথমবারের মতো ৩২ সেট থেকে লটারির মাধ্যমে এক বোর্ডের তৈরি প্রশ্নে অন্য বোর্ডে পরীক্ষা নেওয়াকে এর কারণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৬৯ দশমিক ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও গত বছর এই হার ছিল তারও প্রায় নয় শতাংশ বেশি, ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৭ হাজার ৭০৮ জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদসহ শিক্ষা বিভাগের কর্তা-ব্যক্তিরা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে এজন্য দায়ী করলেও ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, লটারির মাধ্যমে ‘ভাগে পড়া’ এক বোর্ডের প্রশ্নে অন্য বোর্ডে পরীক্ষা নেওয়ায় এমনটি ঘটেছে। আশানুরূপ ফল না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ার এমন দৃশ্য দেখা গেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশানুরূপ ফল না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ার এমন দৃশ্য দেখা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ্রের কথায়ও মিলেছে এর সত্যতা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় শঙ্কা থাকে এমন ২১টি বিষয়ে এবার ৩২ সেট করে প্রশ্ন করা হয়েছিল। আট বোর্ড একেকটি বিষয়ে চার সেট করে মোট ৩২ সেট প্রশ্ন করে। কোন বোর্ডে কোন প্রশ্নে পরীক্ষা হবে তা লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়েছে।” উদাহরণ হিসাবে শ্রীকান্ত বলেন, রাজশাহী বোর্ডের তৈরি করা প্রশ্ন ওই বোর্ড ছাড়া অন্য সাতটি বোর্ডের জন্য লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। আগে কেন্দ্রীয়ভাবে এসব প্রশ্ন করা হতো জানিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, এরফলে ইউনিক প্রশ্ন হলেও এবার প্রশ্নের ধারা পাল্টে যায়, ফলাফলেও পড়েছে এর প্রভাব। তবে ফলাফলের সব সূচকে অবনতি হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে দায়ী করছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, “সৃজনশীল প্রশ্নে ত্রুটি আছে। প্রস্তুতিতেও অভাব আছে। তবে এর মধ্য দিয়েই এগোতে হবে।” শুধু পাসের হার ও পূর্ণ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ই প্রভাব পড়েনি, বেড়েছে শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত বছর ২৪টি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী ফেল করেছিল। তবে এবার শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি বেড়ে হয়েছে ৩৫টি। এছাড়া গত বছর এক হাজার ১৪৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী পাস করলেও এবার এই সংখ্যা ১৪টি কমে এক হাজার ১৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে। পাসের হার কমে যাওয়া এবং বিভিন্ন সূচকে অবনতির কারণ বিশ্লেষণ করে তা মোকাবেলা করা হবে বলে জানান নাহিদ। মোবাইলে ফল খুঁজতে ব্যস্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করছেন শিক্ষামন্ত্রী গত বছরের মত এবারও এইচএসসির ১২টি বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা হয়েছে। সৃজনশীলের ১২টি বিষয়ের সঙ্গে আরও নয়টি বিষয়ের ৩২ সেট করে প্রশ্ন করা হয়েছিল।চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান বলেন, ২০১৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে এবার প্রতিটি শিক্ষাবোর্ডে আলাদা প্রশ্নপত্র করা হয়। কোথায় কোন প্রশ্নে পরীক্ষা হবে তা ঠিক হয় লটারির মাধ্যমে।“যেসব শিক্ষার্থী সনাতনী পদ্ধতিতে সিলেকটিভ পড়াশোনা করেছে তাদের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে।”এছাড়া হরতাল-অবরোধের কারণে পরীক্ষার আগে ক্লাস করতে না পারায় ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন তিনি।বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্ন হওয়ায় বিগত বছরের প্রশ্নের সঙ্গে এক ধরনের সামঞ্জস্যতা রাখা হত। এবার লটারির মাধ্যমে প্রশ্ন নির্ধারণ হওয়ায় সেটা রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে অনেক শিক্ষার্থী খারাপ করেছে।অন্য বছরগুলোতে উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষকদের উদার হওয়ায় নির্দেশনা দেওয়া হলেও ধারাবাহিক প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এবার পাসের হার বাড়ানো নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না বলেও কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন।বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতালে এসএসসি ও সমমানের সবগুলো অর্থাৎ ১৬ দিনের ৩৬৮টি পরীক্ষা পেছানো হলেও অবরোধের মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষা নেয় সরকার।উচ্চ মাধ্যমিকে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে কমে যাওয়ার জন্য বছরের শুরুতে বিএনপি ও জামায়াতের টানা হরতাল-অবরোধকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “দুর্ভাগ্য, বিএনপি-জামায়াত যদি আত্মঘাতীমূলক জ্বালাও-পোড়াও কর্মকাণ্ড না করত, পাসের হার আরও ভালো হতে পারত।”ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এবার একক কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ঢালাও ফেল করেনি। তবে বোর্ডভিত্তিক কঠিন বিষয়গুলোতে পাসের হার অনেক কমেছে। উচ্চ মাধ্যমিকের ভালো ফলে আনন্দে আত্মহারা রাজধানীর নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: নয়ন কুমারগতবারের চেয়ে ইংরেজিতে যশোর বোর্ডে ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ পয়েন্ট, ঢাকা বোর্ডে ১৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ পয়েন্ট এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ পয়েন্ট পাসের হার কমেছে।পদার্থে যশোর বোর্ড ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ পয়েন্ট, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ পয়েন্ট এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে পাসের হার।রসায়নে চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ পয়েন্ট, বরিশাল বোর্ডে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ পয়েন্ট এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ পয়েন্ট কম পাস করেছে।হিসাববিজ্ঞানে কুমিল্লা বোর্ডে ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ পয়েন্ট এবং ঢাকা বোর্ডে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট পাসের হার কমেছে।বরিশাল বোর্ডে পৌরনীতিতে গতবারের চেয়ে এবার ১৯ ১৯ দশমিক ১১ শতাংশ পয়েন্ট কম পাস করেছে।অন্যদিকে এইচএসসির মানবিকে গতবারেরে থেকে এবার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, বিজ্ঞানে ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ পয়েন্ট এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯ দশমিক ৩১ শতাংম পয়েন্ট পাসের হার কমেছে।আর মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ পয়েন্ট পাসের হার কমলেও কারিগরি বোর্ডে এবার পাসের হার বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook