রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : লাশ দাফন হয়েছে মাত্র ২ মাস ১৩ দিন হলো। ফের ময়না তদন্তের জন্য আদালতের আদেশে কবর খুঁড়ে দেখা গেল লাশ উধাও ! অভিযোগ ওঠেছে, খুনি চক্র বৃদ্ধ দিনমজুর আব্দুল মনাফের লাশ চুরি করেছে। কেননা, কবরে একটি হাড্ডিও নেই, নেই কাফন। উল্টো কবরে পাওয়া গেছে পলিথিন ! সিলেটের বিশ্বনাথের খাজাঞ্চি ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসী দিনমজুর মনাফ খুনের বিচার দাবি করেছেন। মঙ্গলবার নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহেল মাহমূদ ও সিলেটের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. হাবিবুর রহমানের উপস্থিতিতে মনাফের কবর খোঁড়া হয়। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও বিশ্বনাথ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুহেল মাহমূদ বলেন, আদালতের নির্দেশে লাশ উত্তোলনের জন্য কবর খোঁড়া হয়। কিন্ত কবরেলাশের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কেউ লাশটি সরিয়ে ফেলেছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেল, গত ১৬ মে বিকেল থেকে নিখোঁজ হন হরিপুর গ্রামের মৃত জবান আলীর পুত্র দিনমজুর আব্দুল মনাফ (৫৫) । ১৮ মে সন্ধ্যায় বাড়ি লাগোয়া গোয়াল ঘর থেকে লাশ পঁচা দুর্গন্ধ বাতাসে ভেসে আসতে থাকে। তখন স্বজনরা গোয়ালঘরে গিয়ে দেখতে পান দিনমজুর মনাফের গলায় রশি লাগানো। হাঁটু গেড়ে বসা অবস্থায়। ঘরের বেড়ার সাথে নিথর দেহ লেগে আছে। রক্তাক্ত শরীর। পা ও গলার জখম থেকে ঝরা মাটিতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহতের ভাই আব্দুল হাশিম অভিযোগ করেন, তার ভাই মনাফ বিদেশ যাওয়ার জন গ্রামের উস্তার আলীর ছেলে টিটু মিয়াকে দেড় লাখ টাকা দেন। জমি ও গরু বেচে টাকা দিলেও মনাফের ওমান দেশে যাওয়া হয়নি। তার সাথে টিটু ও সহযোগীরা নানা টালবাহানা শুরু করে। শেষতোক, মনাফকে তারা না ফেরার দেশেই পাঠিয়েছে। তাকে খুন করে আত্মহত্যার বলে চালিয়ে নিতে লাশ গোয়ালঘরে রশিতে বেঁধে ফেলে যায়। গ্রামবাসীর অভিযোগ, গরীব হওয়ায় পুলিশ আসামি পক্ষে অবস্থান নিয়ে সুরতহাল রিপোর্টে আত্মহত্যা উল্লেখ করেছে। এমনকি ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার ইফ্ফাত ফারুকি ময়নাতদন্ত না করেই আত্মহত্যা উল্লেখ করেছেন। অথচ লাশের শরীরে ওই সময়ে ময়না তদন্তের কোনো কাঁটা ছেঁড়ার চিহ্নই পাওয়া যায়নি। তাই লাশ ফের ময়নাতদন্তের জন্য স্বজনরা আদালতে আবেদন করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল হাশিম বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার আসামিরা হলো একই গ্রামের টিটু মিয়া (২৫), উস্তার আলী (৫৫), মিন্টু মিয়া (২২), লুৎফুর (৩২) ও কবিরুল (৩৫)। কবর খুঁড়তে আসা গ্রামের কবির আহমদ বলেন, আমি নিজে লাশ কবরে রাখলাম। এখন দেখি লাশ হাওয়া ! পলিথিন কবরে রাখলাম না। এখন দেখি কাফনের বদলে পলিথিনের টুকরা।’ নিহতের স্ত্রী চম্পা বেগম বলেন, আমার স্বামী যেখানো বিদেশ যাইতা, ইখানো একজন আশাবাদি মানুষ আত্মহত্যা করতে পারইন না। আর তানোর (তার) মাঝে মুই ইলা কিচ্ছু দেখছিও না। তানরে খুন করা হইছে, বিদেশের টাকা ফিরত না দেওয়ার লাগি।’ হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, মনাফ বিদেশ যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিল। তার বিদেশ যাওয়ার টেকা লইয়া গ্রামে বিচারও হইছে। এই লোকটা আত্মহত্যা করার কথা নায়। তারে হত্যা করা হইছে। আমরা মনাফ হত্যার বিচার চাই।’ সিলেট সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আহমেদ সিরাজুম মুনির রাহেল বলেন, এত অল্প সময়ে একটি লাশের অস্তিত্বও পাওয়া যাবে না-ব্যাপারটি অবাক হওয়ার মতো। লাশ কবরে আমরা পাইনি। এ বিষয়ে রিপোর্ট করবো।’ জানতে চাইলে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, লাশটি পাওয়া না যাওয়ায় আমিও অবাক হয়েছি। তবে, যেহেতু স্বজনদের শনাক্ত করা জায়গাতে কবর খোঁড়া হয়েছে, এতে একটু সন্দেহ আছে কবর কী আসলেই এখানে দেওয়া হয়েছিল ?’ দাফনের সময়ও গ্রামের মানুষ ছিল, কবর খোঁড়ার সময়ও ছিল-কবর শনাক্ত না হওয়ার পেছনে কারণ কী থাকতে পারে ?-এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, কবরের ব্যাপারে গ্রামের মানুষই ভালো বলতে পারবে।’
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook