0

thরিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : মবিবিএস কোর্স কারিকুলামের ‘ক্যারি অন’ পদ্ধতি বহু শিক্ষার্থীকে আদু ভাই বানিয়েছে। এ সব আদু ভাইয়েরা বারবার পরীক্ষায় ফেল করে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় রাজনৈতিক কর্মী বনে যাচ্ছেন। তাই মেডিকেল কলেজে শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার প্রতি অধিক মনোযোগী করতে ‘ক্যারি অন’ পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে।   সঙ্গে আলাপকালে কোর্স কারিকুলাম প্রণয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একাধিক চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞ এ সব কথা বলেন।   তারা বলেন, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এখন রাজনৈতিক কর্মী বনে গেছে! শিক্ষার্থীদের যে কোনো সমস্যা সমাধান বা প্রতিকারের জন্য কলেজের বিভিন্ন বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক, অধ্যক্ষ, একাডেমিক কাউন্সিল ইত্যাদি নানা অভিভাবক থাকলেও শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষকে সমস্যা জানানোর সাধারণ সৌজন্য প্রদর্শনে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে।   তারা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মতো দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদ সম্মেলন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে, যা শুধুমাত্র অনভিপ্রেতই নয়, খুবই দুঃখজনক।     মঙ্গলবার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বিএমডিসি, বিএমএ, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একাধিক অধ্যক্ষ ও সিনিয়র শিক্ষক ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, চিকিৎসা শিক্ষা জীবনের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মীদের মতো আচরণ ভবিষ্যতে তাদের সেবার মনোবৃত্তিকেই শুধু নষ্ট করবে না, ভাল চিকিৎসক হওয়ার পথকেও রুদ্ধ করবে।  নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএমডিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০১২ সালের নতুন কোর্স কারিকুলাম প্রণয়নের আগে টানা দুই বছর দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসা শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে পুরোনো কোর্স কারিকুলামের বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেন।   পাঁচ বছরের এমবিবিএস কোর্সে যতগুলো বিষয় পড়ানো হয় সে সব বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের কাছ থেকে পৃথক পৃথক মতামত নেয়া হয়।   পুরোনো কোর্স কারিকুলামে ‘ক্যারি অন’ পদ্ধতিটি চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নে বাধার সৃস্টি করছিল বলে বেশিরভাগ শিক্ষক অভিমত ব্যক্ত করেন। ফেল করলেও সমস্যা নেই- শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন মানসিকতা গড়ে উঠেছিল। এর ফলে শিক্ষার্থীদের অনেকেই পড়াশুনায় অমনোযোগী হয়ে পড়েন এবং পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করে বলে প্রমাণ পান শিক্ষকরা।   এমনও দেখা গেছে চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তখনও পর্যন্ত প্রথম পেশাগত পরীক্ষার সব বিভয়ে পাস করতে পারেনি। এ নিয়ে শিক্ষকদের নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।   মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন কোর্স কারিকুলাম খুবই প্রয়োজন উল্লেখ করে তারা জানান, শুধুমাত্র প্রথম পেশাগত পরীক্ষার ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা যাতে সতর্ক থাকে সেজন্যই মাত্র একটি পেশাগত পরীক্ষায় ‘ক্যারি অন’ পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় তা বাতিল হয়নি।   অনেক শিক্ষার্থী ভাল করে কোর্স কারিকুলাম না দেখে হুজুগে মেতেছে বলে ওই চিকিৎসকরা মন্তব্য করেন।   এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ঢামেকের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ‘ক্যারি অন’ পদ্ধতিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত খুবই যথার্থ। তারা বলেন, যারা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন তারা কেন রাজনীতি করবে, কেন ফেল করেও পড়াশুনা  চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ খুঁজবে।  জানা গেছে, সম্প্রতি নতুন কোর্স কারিকুলামে নেয়া প্রথম পেশাগত পরীক্ষায় প্রায় ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।   বিএমএ’র একজন শীর্ষ নেতা বলেন, কিছু কিছু চিকিৎসক নেতা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কাছে ভাল সেজে সুকৌশলে তাদের রাজনৈতিক কর্মীতে পরিণত করছে যা খুবই দুঃখজনক বলে ওই নেতা মন্তব্য করেন।

জাগো নিউজ



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top