0

rajon-azizur-sm20150714151130রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যার পর তার পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে এ পাশবিক ঘটনায় মর্মাহত সাধারণ মানুষও রয়েছে। রাজনের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি-বেসরকারি কিছু সংস্থা প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের ঘোষণা দিয়ে সহযোগিতা করেছে। এর বাইরেও অনেক মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের সাধ্যমতো রাজনের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের ধারণা, অনুদানের এ টাকা অর্ধ কোটির কম-বেশি হবে। রাজনের বাবা শেখ আজিজুল আলমের ফুফাতো ভাই আবদুল মালিক জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে অনুদানের টাকা রাজনের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অনুদানের টাকাগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে রাজনের বাবা শেখ আজিজুল আলম ও মা লুবনা বেগমের নামে আজ বুধবার সকালে প্রাইম ব্যাংক সুবিদবাজার শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে। এরপর রাজনের পরিবারের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এক লাখ টাকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এক লাখ টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৫০ হাজার টাকা, সিলেট জেলা পরিষদ পাঁচ লাখ টাকা, জেলা প্রশাসন এক লাখ ২০ হাজার টাকার চেক প্রকাশ্য অনুদানের মাধ্যমে হস্তান্তর করেছে। ‘এলাকাবাসী ও স্বজনরা দাবি করছেন, রাজন হত্যার পর অর্ধ কোটি টাকার মতো অনুদান পেয়েছেন, সেই টাকা কীভাবে কাজে লাগাবেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনের বাবা শেখ আজিজুল আলম বলেন, ‘রাজনের মা ও আমার নামে পূবালী ব্যাংক তেমুখী শাখা এবং প্রাইম ব্যাংক সুবিদবাজার শাখায় দুটি ফিক্সড ডিপোজিট করব। এ ছাড়া আমাদের বাড়ির পাশের একটি জমি আগে আমি বিক্রি করে দিয়েছিলাম, এখন সেটি আবার আমি কিনতে চাচ্ছি।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই জমিটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। রাজনের বাবা আরো জানান, বিভিন্ন মানুষ অনুদান দিচ্ছে। লন্ডনের একজন কাউন্সিলর ওয়ালিউর রহমান আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফিরে পাঁচ হাজার পাউন্ড অনুদান দেবেন। লন্ডন প্রবাসী আঙ্গুর মিয়া নামের একজন সেখানে কিছু সহযোগিতা সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন। সেই টাকাও তিনি পরিবারকে দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া একজন প্রবাসী আমাদের থাকার ঘরটি দালান করে দিচ্ছেন। এ কাজ শুরু হয়েছে। তবে অনুদানের এসব টাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন খাতে বেশ কিছু টাকা খরচ হচ্ছে বলেও জানান রাজনের বাবা। তিনি বলেন, এর মধ্যে রাজন মারা যাওয়ার তিনদিন পর থেকে প্যান্ডেল, মাইক ও চেয়ার বাড়িতে ভাড়া আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষকে রং চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য কিছু টাকা খরচ হচ্ছে। এ দিকে রাজনের বাবার নিরাপত্তার জন্য জালালাবাদ পুলিশের তিন সদস্যের একটি দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। এসএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে রাজনের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে। খবর : এন টিভি


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top