রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : এক পাত্র গলা ভাত! চিনা ভাষায় বললে ‘কনজি’। সেটাই এ বার আরও সুস্বাদু হয়ে উঠছে বিকিনির গুণে। চিনে সদ্য খোলা একটি রেস্তোরাঁর বিকিকিনির হিসেব তো তা-ই বলছে!দিন কয়েক আগেই উত্তর-পূর্ব চিনের লিয়াওনিং প্রদেশের রাজধানী শেনইয়াং-এ খুলেছে ‘দাওশিয়ানজি’ নামের ওই রেস্তোরাঁ। নিয়ম মেনে বিশুদ্ধ ধ্রুপদী ‘কনজি’ তারা বেড়ে দিচ্ছে খদ্দেরদের পাতে। সারা রাত ধরে ফুটিয়ে ঠিক যে ভাবে তৈরি হয় এই সুস্বাদু গলা ভাত, ‘কনজি’ তৈরির সেই চিনা ঐতিহ্যের বাইরে এক পা-ও ফেলছে না তারা। বিপ্লবটা শুধু ঘটিয়েছে পরিবেশনে। প্রত্যেক দিন, নিয়ম করে বিকিনিতে সেজে সুন্দরীরা সেই খাবার টেবিলে নিয়ে আসছে ভোজের জন্য।আর, সেই বিকিনির গুণেই না কি রেস্তোরাঁর বিক্রিবাটা এক লাফে বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ! প্রত্যেক দিন পুরুষ-নারী নির্বিশেষে অসংখ্য ক্রেতা ভিড় জমাচ্ছেন টেবিলে। লাইন দিয়ে বাইরে দাঁড়িয়েও থাকছেন অনেকে। বিকিনি-বালার হাতে বেড়ে দেওয়া ‘কনজি’ না খেয়ে রেস্তারাঁ ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না কেউ-ই!পুরুষরা যে বিকিনির টানে ভিড় জমাবেন ‘দাওশিয়ানজি’-র টেবিলে, তাতে আর নতুন কী! কিন্তু, নারীরাও যে নড়তে চাইছেন না ‘দাওশিয়ানজি’ ছেড়ে, তার মূলেও কি লুকিয়ে আছে ওই বিকিনির-ই রহস্য? বিকিনির তুখোড় আবেদন কি উসকে দিচ্ছে তাঁদের স্বাধীনচেতা প্রবৃত্তিকে?‘দাওশিয়ানজি’-র পরিবেশনের থিম আদতে সাগরতটের সাজ। সেই সাজের নিয়ম মেনে যেমন বিকিনিতে নিজেদের মেলে ধরেছেন ২০ জন সুন্দরী, তেমনই ১০ জন পুরুষও খাবার নিয়ে আসছেন খোলামেলা শরীরে। সুঠাম পৌরুষ আর দৃপ্ত পেশির যুগলবন্দিতে তাঁরাও নন্দিত করছেন নারীদের।তবে, ক্রেতারা মেতে থাকলেও ‘দাওশিয়ানজি’-র রীতিনীতি নিয়ে এর মধ্যেই যথেষ্ট ঝড় উঠেছে চিনা মহলে। যে ভাবে পেটের সঙ্গে সঙ্গে চোখের খিদেও মেটাচ্ছে এই রেস্তোরাঁ, সেই ব্যাপারটা খুব একটা ভাল মনে নিতে পারছেন না চিনের রক্ষণশীল মহল। চিনের একটি সংবাদপত্রও গলা চড়িয়েছে বিকিনির সঙ্গে ‘কনজি’-কে এ ভাবে মিলিয়ে দেওয়ায়। তারা বলছে, “রেস্তোরাঁর কাজ হল খাবার বিক্রি করা। বিকিনি নয়! ব্যাপারটাকে তাই চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নজির ছাড়া আর কিছুই বলা যাচ্ছে না।”‘দাওশিয়ানজি’ কর্তৃপক্ষ অবশ্য ব্যাপারটাকে এ ভাবে দেখতে রাজি নয়। তাঁদের দাবি, বিকিনি নিয়ে এত হইচই কেন? বিকিনির সঙ্গে তো প্রত্যেক ওয়েট্রেস শরীরে এঁকে নিচ্ছেন রেস্তোরাঁর নামের উল্কিও! সেটাই তো স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, তাঁরা শুধুই বিকিনিকে তুলে ধরছেন না। তা ছাড়া, মেয়েদের সঙ্গে তো ছেলেরাও কাজ করছেন সাগরতটের সাজে! তাঁদের নিয়ে তাহলে কেন গলা তুলছেন না কেউ?
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook