রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : বগুড়ায় রড বোঝাই ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় ইট ভাটার মালিক ও জেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেনসহ ৬ ডাকাতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।ডাকাতির শিকার ট্রাকের হেলপার সাজু বাদী হয়ে বুধবার রাতে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে।জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রাম হতে রড বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৫৫৫৫) গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। রাত ২টার দিকে গাজীপুরের চান্দুরায় পৌঁছলে যাত্রীবেশী ৬ জন ডাকাত ট্রাকটি থামিয়ে নিজেদেরকে শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বগুড়ায় আসার জন্য ট্রাকে ওঠে।ট্রাকটি বগুড়ার বনানীর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর চালক কোথায় নামবে জানতে চাইলে ডাকাতরা টেপ দিয়ে চালক ও হেলপারের চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে এবং দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।একপর্যায়ে চালককে গলায় গামছা বেঁধে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে এবং হেলপারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ট্রাকের পিছনে টুলবক্সের ভিতরে ঢুকিয়ে রাখে। এরপর তারা মৃত চালককে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ঈদগাহ মাঠের নিকট ফেলে রাখে।বুধবার ভোরে পুলিশ খবর পেয়ে ট্রাক চালকের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহত ট্রাক চালক আনজু (৩৫), গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। হেলপার সাজুর (৫০) বাড়ি রংপুর জেলা সদরের মাহিন্দ্রা গ্রামে।এদিকে, মৃত চালকের লাশ ফেলে দিয়ে ডাকাতরা ট্রাকটি নিয়ে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুরে এমআইবি ইটভাটার ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেখানে রডগুলো আনলোড করার সময় গোয়েন্দা পুলিশ খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালায়।এসময় ডাকাত সোহাগ (২৫) হাতেনাতে ধরা পড়ে। সে বগুড়া সদরের ফুলবাড়ি এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে। গ্রেফতারকৃত সোহাগের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ হেলপারকে ট্রাকের টুলবক্সের ভেতর থেকে বের করে এবং ট্রাকটি উদ্ধার করে। পরে মিরাজুল ইসলাম মিজু নামের আরও এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলনে কক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, এঘটনায় শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডাকাতি ও হত্যার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook