0

29. eadniলাইফ-স্টাইল ডেস্ক::
কয়েকদিন আগে সংবাদ মাধ্যম ও মিডিয়ার কল্যাণে মার্কিন মডেল ও অভিনেত্রী রাচায়েলের ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হয়ে মৃত প্রায় অবস্থার খবর আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু এই রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত আমরা অনেকেই জানি না। তাই আজ এ সম্পর্কে সবাইকে একটু বিস্তারিত জানাতে চাই।

ইটিং ডিজঅর্ডার হচ্ছে একটি রোগ। যদিও এই রোগের প্রথম পর্যায়ে কেউ একে রোগ ভাবেন না। এটি হচ্ছে এমন একটি অবস্থা যে, খাদ্যের প্রতি একটি অস্বাভাবিক মনোভাব প্রকাশের মাধ্যমে কেউ তাদের খাদ্যাভাস এবং আচরণ পরিবর্তন করাকে বোঝায়। একজন ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত মানুষকে শনাক্ত করা যায় তাদের দেহের ওজন ও আকৃতির মাধ্যমে, খাদ্যের ব্যাপারে তাদের অস্বাস্থ্যকর পছন্দের প্রকাশ দেখে এবং এর ফলাফল হিসেবে তাদের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব দেখে।

ইটিং ডিজঅর্ডারের প্রকারভেদ:
এই রোগটি যে কোন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে এবং সামাজিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ইটিং ডিজঅর্ডার বেশ কয়েক ধরনের হয়ে থাকে, এর ফলে শুধু যে না খেয়েই শুকিয়ে যা তা নয় অনেক খেয়ে মোটাও হয়ে যেতে পারে। এখানে প্রধান কিছু ইটিং ডিজঅর্ডার সম্পর্কে জানাচ্ছি-

অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা- এটি সবচেয়ে মারাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি সব সময় চেষ্টা করেন তার দেহের ওজন যত কম রাখা সম্ভব। এজন্য ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা দিনের পর দিন না খেয়ে থাকেন, অতিরিক্ত ব্যায়াম করেন। এমনকি খাবার নিয়ন্ত্রনের জন্য তারা ঔষধ গ্রহন করেন, কোন সময় খেয়ে ফেললেও তারা বমি করে সেই খেয়ে ফেলে খাবার বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা তাদের এই অবস্থা বজায় রাখার জন্য নিজেদের নিয়ন্ত্রিত করে ফেলেন। এজন্য তারা নিজের আনন্দ এমনকি সামাজিকতা রক্ষা করা থেকেও নিজেকে বিরত রাখতে শুরু করেন। এভাবে খাবার থেকে দূরে থাকতে থাকতে একসময় চাইলেও তারা খেতে পারেন না। তাদের শরীরের ওজন অস্বাভাবিক ভাবে কমতে থাকে। এভাবে তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

বুলিমিয়া নার্ভোসা- এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তির অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসার মতো এতো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। ব্যক্তি দিনের কিছুটা সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলেও হটাৎ খাবার দেখলেই সেই নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননা। একসঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। কিন্তু তারপর শুরু হয় ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় আর অনুশোচনা। খেয়ে ফেলা খাবার যেকোনো উপায়ে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। ইচ্ছাকৃত বমি করে বা বিভিন্ন ধরনের ঔষধ বা লেকজেটিভ খেয়ে, অত্যাধিক ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ক্যালোরি বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে আবারো তারা বেশি খান এবং একই কাজ পুনরায় করতেই থাকেন।এইসব কর্মকান্ডের ফলে তাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। তারা বিষণ্ণতা ও উদ্বিগ্নতায় ভোগেন। এছাড়া হার্ট, কিডনী, দাঁত ও পাচনতন্ত্রের সবঅংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বুলিমিয়া নার্ভোসা যাদের মাঝে থাকে তারা আবেগপ্রবণ ও বিপদজনক আত্মবিনাশী আচরণ এর ঝুঁকিতে থাকেন যেমন নিজের অঙ্গহানি করা, মদে আসক্ত, চুরি করার বাতিক এবং উশৃঙ্খল জীবনযাপন।

বিনজ ইটিং ডিজঅর্ডার- এটা হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিয়মিতভাবে প্রচুর খায় এবং খাওয়ার উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তারা খুব দ্রুত ও প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খায় এমনকি তাদের ক্ষুধা না থাকলেও এবং পেট অস্বাভাবিকভাবে ভরে যাবার পর ও তারা খেতেই থাকেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, তারা এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাবার খাওয়ার সময়েই এবং খাওয়ার পরও তাদের মাঝে একধরনের বিতৃষ্ণাভাব, লজ্জিত ও অপরাধবোধের জন্ম নেয় ঠিকই কিন্তু তারপরও তারা ব্যায়াম করে বা খাবার নিয়ন্ত্রণ করে এটা সংশোধনের কোনরূপ চেষ্টাই করেন না বরং তারা তখন এটা সবার থেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন এবং একা একা চালিয়ে যান।খাবারে তাদের এরকম অনিয়ন্ত্রণ সবসময় থাকলেও কারো কারো ক্ষেত্রে হয়তো সপ্তাহে একদিন একটু অনেক বেশি হয়ে যায়। আক্রান্তদের ওজন সাধারণত কারো স্বাভাবিক, কারো বেশি ওজন বা কারো স্থূলতা থাকতে পারে।

উপরোক্ত ৩ ধরনের ছাড়াও আরো কয়েক ধরনের ইটিং ডিজঅর্ডার রয়েছে-

রেস্ট্রিক্টিভ ফুড ইনটেক ইটিং ডিজঅর্ডার- এতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দেহের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হন কারন তাদের খাবারের প্রতি বিতৃষ্ণার জন্য, খাবারের স্বাদ, রঙ, গন্ধ, বর্ণ পছন্দ না হওয়ার জন্য এবং খাবার খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ের কারনে।এভাবে খাবার থেকে দূরে থাকতে থাকতে তাদের অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যায় এবং তারা পুষ্টিহীনতায় ভোগেন যার ফলে নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে।

পিকা- এতে আক্রান্তরা কিছুটা অদ্ভুত ধরনের আচরণ করে।তারা খাদ্য ছাড়া অনবরতভাবে অন্য বস্তু খেতে থাকে। এটা হতে পারে সাবান, কাপড়, ট্যালকম পাউডার বা কোন ময়লা জাতীয় কোন বস্তু। অর্থাৎ এমন কিছু তারা খায় যা খাবারের অনুপোযুক্ত।ফলে তাদের বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা যেমন বিষক্রিয়া, পাকস্থলীতে সংক্রমণ বা প্রদাহের সৃষ্টি হয়। এটি সাধারণত হয়ে থাকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top