নিউজ ডেস্ক::
আগামীতে অনুমতি ছাড়া কোন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না সাংবাদিকরা। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সাংবাদিকদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। অনুমতি পেলেও ৫ জনের বেশি সাংবাদিক একসঙ্গে কেন্দ্রে যেতে পারবেন না। যাওয়ার অনুমতি মিললেও ১০ মিনিটের বেশি ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করা যাবে না। নিয়ম ভঙ্গ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সংসদের মাগুরা-১ আসনের উপ-নির্বাচন থেকে এ নীতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল শনিবার এই নির্বাচন হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার অথবা প্রিজাইডিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন। অনুমতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে ৫ জন করে সাংবাদিক সর্বোচ্চ ১০ মিনিটে কেন্দ্রে অবস্থান করতে পারবেন বলে কমিশন নির্দেশনা দিয়েছে। আগামীতে সব নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সাংবাদিকদের এ ধরনের গাইডলাইন থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
ভোটগ্রহণের একদিন আগেই মাগুরা-১ আসনের উপ-নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে গাইডলাইন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পর নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে সাংবাদিকদের বাধা দেয়া হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইসিতে পাঠানো এক চিঠিতে বলেছে, প্রিজাইডিং অফিসারগণ রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কোন কথা বলতে পারবেন না।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৯৯৪ সালে মাগুরা-২ উপনির্বাচনে (বিএনপি সরকারের অধীনে) সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ ভোটগ্রহণের আগের দিন রাতেই ঢাকায় চলে আসেন। জনশ্রুতি রয়েছে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে কারচুপির মাধ্যমে বিজয়ী করার জন্য সিইসি নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করেন।
২১ বছর পর আগামীকাল শনিবার মাগুরা-১ আসনে উপনির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও একাধিকবার নির্বাচিত এমপি মো. সিরাজুল আকবরের মৃত্যুতে মাগুরা-১ সংসদীয় আসনটি শূন্য হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত এ উপনির্বাচনও বর্জন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে টানা ভোটগ্রহণ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন। মোট ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৪২ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮০২ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৪০টি ও ভোটকক্ষ ৭১১টি।
মাগুরা পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনের পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ান আনসারের সমন্বয়ে ৬৯টি মোবাইল টিম এবং ৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাবের ১৮টি মোবাইল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি টিমে ২৪ জন সদস্য ও ৩টি গাড়ি রয়েছে। এছাড়া ৪ প্লাটুন বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকছে।
শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা জানান, আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেজর জেনারেল (অব.) এটি এম আব্দুল ওয়াহ্হাব, স্বতন্ত্র প্রার্থী তপন কুমার রায়, বিএনএফের কেএম মুস্তাসিম বিল্লাহ ও এনপিপি’র কাজী তৌহিদুল আলম।
সূত্র: ইত্তেফাক
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook