রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : নৌযান থেকে নদীতে এবং ট্রেন থেকে রেলপথে মানব বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ জন্য সরকারের প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে একটি ‘টেকনিক্যাল (কারিগরি)’ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় নদী ও রেলপথে মানব বর্জ্য (মলমূত্র) ফেলা বন্ধের বিষয়ে উদ্যোগ দিতে ‘টেকনিক্যাল’ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবদুল মালেক সভাপতিত্ব করেন। সভায় সচিব জানান, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের প্রতিনিধিদের এ কমিটিতে রাখা হবে। আমরা চাই না আর কোনো মলমূত্র নদীতে পড়ুক। তিনি বলেন, ‘আমরা যুগ যুগ ধরে দেখে আসছি নৌযান থেকে মানুষের বর্জ্য ও অন্যান্য আবর্জনা নদীতে ফেলা হচ্ছে, নদী যেন একটা ডাস্টবিন। তেমন রেলপথেও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এটা নিয়ে ভাবনার সময় এসেছে। আমরা এটা ঠেকাব।’ অন্যায়ভাবে মানব বর্জ্য বুড়িগঙ্গায় ও কক্সবাজারে সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার সচিব বলেন, ‘ট্রেন ও নৌযানের মানব বর্জ্য কন্টেইনারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানম-ি এলাকায় সেপটিক ট্যাংক থাকলেও ওইসব এলাকার বর্জ্যও পাইপের মাধ্যমে নদীতে ফেলা হচ্ছে এটা দুর্ভাগ্যজনক।’ নৌযান থেকে নদীতে এবং ট্রেন থেকে রেলপথে মানব বর্জ্য ফেলা ঠেকাতে প্রয়োজনে নতুন আইন করা হবে বলেও জানান আবদুল মালেক। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) মো. ওয়ালী উল্লাহ সভায় ‘রেলপথ, পানিপথ (নৌপথ) ও সড়কপথে স্যানিটেশন’ শীর্ষক উপস্থাপনায় জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য প্রায় আট হাজার ৬০০ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। এ সব নৌপথে প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। অন্যদিকে দেশের দুই হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেললাইনে প্রতিদিন ৩৩৯টি ট্রেন চলাচল করে। রেলে গড়ে এক লাখ ১৫ হাজার থেকে এক লাখ ৪৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন বলেও জানান তিনি। ট্রেন ও নৌযানগুলোতে শৌচাগার থাকলেও মানব বর্জ্য সরাসরি রেললাইন ও নদীতে ফেলা হয় জানিয়ে ওয়ালী উল্লাহ বলেন, মানব বর্জ্য পানি বা ডাঙ্গায় পড়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে রোগজীবাণু ও পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।’ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব জানিয়ে ওয়ালী উল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকার নীতিমালা তৈরি করে তা বাস্তবায়ন করতে পারে।’ অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘ট্রেন ও লঞ্চে একটি কন্টেইনারের মাধ্যমে মলমূত্র সংরক্ষণ করতে হবে। পরে স্টেশন বা লঞ্চঘাটে বর্জ্য বহনকারী ওইসব কন্টেইনার খালি করতে হবে। সেখানে শোধানাগারে ডাম্পিংকৃত পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপকরণে রূপান্তরিত করা যাবে।’ মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাইলট প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সভায় লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা সরকারে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করলে কোনো সমস্যা হবে না।’ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি সভায় জানান, রেল মন্ত্রণালয় পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য করণীয় নির্ধারণে একটি কারিগরি কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook