0

9.-anondaরিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : বিশিষ্ট সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে ভারতের কলকাতাভিত্তিক প্রভাবশালী দৈনিক আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে। ফরিদপুরের সাংসদ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয়তার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই মন্ত্রীর কাজকর্ম নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তিতে কালি পড়ল। এছাড়া দেশজুড়ে তৈরি হওয়া চাপের মুখে সরকার প্রবীর সিকদারকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্পর্কে শেখ হাসিনার বেয়াই খন্দকার মোশারফ সম্প্রতি সরকারে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি জোর করে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার নানা অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর এই সব কাজের বিরুদ্ধে কলম ধরায় স্থানীয় বেশ কিছু সাংবাদিককে মিথ্যে মামলায় হেনস্থা, এমনকী মারধর করারও অভিযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। মোশারফের বিরুদ্ধে প্রবীর সিকদার এমনই একটি ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন উল্লেখ করে বলা হয়, ফেসবুকে তাঁর লেখা একটি পোস্টের কারণে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফরিদপুরের সাংসদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশারফের মানহানির অভিযোগ উঠেছে সিকদারের ফেসবুক পোস্টটিতে। আনন্দবাজার জানায়, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রবীরের অভিযোগ, ফরিদপুরের প্রাণকেন্দ্রে অরুণ গুহ মজুমদারকে সপরিবার উচ্ছেদ করে তাঁর প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তির দখল নিয়েছে এই মন্ত্রীর দলবল। সম্পত্তির মালিককে অস্ত্রের মুখে বিক্রির দলিলে সই করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফরিদপুরের প্রবীর সিকদার বাংলাদেশের পরিচিত মুখ উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘১৯৭১-এ তাঁর পরিবারের ১৪ জনকে হত্যা করেছিল রাজাকার ও পাকিস্তানের সেনারা। ২০০১ সালে ফরিদপুরের রাজাকার শিরোমণি মুসা বিন সামশেরের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন লেখায় মৌলবাদীরা তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে। বোমায় একটি পা হারান সিকদার।’ সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনাই তাঁকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোয় তিনি প্রাণে বাঁচেন বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। মৌলবাদের বিরুদ্ধে বরাবর সরব প্রবীণ সেই সাংবাদিককে পুলিশ হাতকড়া পরিয়ে ঢাকা থেকে ফরিদপুরে নিয়ে যাচ্ছে— এই ছবি প্রকাশ হওয়ায় বাংলাদেশে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। সিকদারের গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে মৌলবাদী-বিরোধী সব মহল প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠায় সরকার তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন বলে উল্লেখ করেছে আনন্দবাজার। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবীরকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশের সব বড় শহরে গণজাগরণ মঞ্চ ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। বিশিষ্টজন এমনকি ক্ষমতাসীন আওয়ামীলিগের নেতাদের একাংশও সিকদারের গ্রেফতারের বিরোধিতা করেন উল্লেখ করে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অবশেযে চাপের মুখে পুলিশ বুধবারই এই সাংবাদিককে আদালতে তোলে। সরকারি কৌঁসুলি তাঁর জামিনের বিরোধিতা না-করায় সিকদার মুক্তি পান। বাংলাদেশে মৌলবাদী স্লিপার সেল তথাকথিত আনসার আল বাংলার হাতে এ পর্যন্ত চার জন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বলেও উল্লেখ করেছে প্রভাবশালী এ সংবাদমাধ্যমটি। অনেক বিশিষ্টজনও হত্যার হুমকি পেয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁরা হুমকির বিষয়টি পুলিশে জানালেও প্রশাসন উদাসীন। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের মৌলবাদ-বিরোধী মহলে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, প্রশাসনের প্রতি অনাস্থায় অনেকে গোপনে দেশ ছাড়ছেন। আর এই পরিস্থিতিতে সিকদারের গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে উল্লেখ করে আনন্দবাজার।-প্রিয়.কম



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top