রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : নির্মম নির্যাতনে নিহত শিশু সামিউল আলম রাজনের বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও টাকার বিনিময়ে খুনিদের রক্ষার চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তদন্ত কমিটি সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে তাদের ৪২৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেয়। প্রতিবেদন জমা দেয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. রোকন উদ্দিন। তবে তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না এ ব্যাপারে কমিটির কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। রোকন উদ্দিন শুধু বলেছেন, তদন্ত প্রতিবেদন ৪২৪ পৃষ্ঠার। এই প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে বলে জানান তিনি। রোকন উদ্দিন তিন সদস্যে বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন। তদন্ত কমিটির অন্য দুইসদস্য ছিলেন- অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা ও উপ কমিশনার মুশফিকুর রহমান। প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে খুঁটিতে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতন করে খুন করা হয় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেয়ালি গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে ১৩ বছর বয়সী শিশু রাজনকে। ওইদিন রাতে রাজনের বাবা আজিজুল ইসলাম জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে এসআই আমিনুল তাকে গলাধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন। পরে পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা মিলে ফোনে রাজনের খুনিদের সাথে ফোনে কথা বলেন। রাজনের পরিবারের অভিযোগ ওসি আলমগীর ও এসআই আমিনুল মিলে ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে রাজনের প্রধান ঘাতক কামরুলকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। এরপর বিষয়টি জানতে আমাদের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ছুটে যান নিহত রাজনের গ্রামের বাড়ি সিলেট সদরের কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলী গ্রামে। গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১ থেকে ১টা পর্যন্ত নিহত রাজনের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি আরো বিস্তারিত জানা যায়। পরদিন সোমবার ‘দেশবাসী পাশে থাকলে আমার পুয়া মারার বিচার হইব’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ হয় । এরপর আরো কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম ও অনলাইন নিউজপোর্টাল পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত ১২ জুলাই রাতে রাজনের বাবা আজিজুর রহমান ও তার স্বজনরা অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, গত ৮ জুলাই রাজনের লাশ উদ্ধারের পর রাত ১১টার দিকে জালালাবাদ থানায় একটি মামলা দায়ের করতে গিয়েছিলেন রাজনের বাবা শেখ আজিজুর রহমান, বড় চাচা শফিকুর রহমান, ছোট চাচা আল আমিন, প্রতিবেশী মো. আলী দুদু মিয়া এবং সামিউলের মামাতো ভাই শেখ আবদুল মালিক। থানায় প্রকৃত নির্যাতনকারী ঘাতকদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলামকে অনুরোধ করেন তারা। কিন্তু নানা টলবাহানা শুরু করেন পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা। রাজনের এক আত্মীয় বয়জেষ্ঠ্য মোহাম্মদ আলী দুদু মিয়া জানিয়েছিলেন, তাদের অনুরোধে কান দেননি ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন ও এসআই আমিনুল ইসলাম। উল্টো তাদেরকে থানার ডিউটি রুম থেকে বের করে দিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে ‘গোপন আঁতাতে’ ব্যস্ত ছিলেন তারা। তিনি অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘ওই দুই পুলিশ কর্তকর্তা প্রকৃত খুনিদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবির মুখে বাধ্য হয়ে তারা রাজন হত্যা মামলায় প্রকৃত নির্যাতনকারী ঘাতকদের নাম মামলায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন।’ এছাড়া এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে রাজনকে ঘাতক কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশের এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার পর এসআই আমিনুল ইসলামকে জালালাবাদ থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। এছাড়া অভিযোগ তদন্তে গত ১৪ জুলাই মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় কমিটি তদন্তের মেয়াদ আরও ৫ দিন বর্ধিত করেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে কি-না এ ব্যাপারে কমিটির কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook