0

05_ganajagaran+Manch_protest_24072015_0001রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : শুক্রবার বিকাল ৪টায় বৃষ্টির মধ্যে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বে প্রায় ৬০ জনের একটি জমায়েত জাতীয় জাদুঘরের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয়।  তারা যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে উচ্চকিত রাখেন শাহবাগ মোড়, দুই বছর আগে একই দাবিতে শুরু হওয়া যাদের আন্দোলন বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে।  বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতার পাশাপাশি নিরীহ মানুষ হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের আপিলের রায় আগামী ২৯ জুলাই দেবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।       সাবেক এই মন্ত্রী এবং দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় যেন কোনোভাবে ঘুরে না যায়, সেই লক্ষ্যে যে কোনো পরিস্থিতে শুক্রবার থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে বলে জমায়েতে ঘোষণা দেন ইমরান।   ‘কুখ্যাত রাজাকার সাকার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে গণঅবস্থান’ ব্যানারে এই অবস্থান চলাকালে ইমরান বলেন, “ঝড়-বৃষ্টি-তুফান যাই আসুক না কেন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী সাকা ফাঁসির রায় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আমাদের অবস্থান চলবে। “এর আগেও আমরা দেখেছি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ আপিলের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডে নেমে এসেছিল।”  তাই সকলকে যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রয়োজনে আমরা রাজপথে লাগাতার অবস্থান করে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করব।”  গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগের দিন ২৮ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।  চট্টগ্রামের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়।  এর আগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ আপিলের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডে নেমে এসেছিল জামায়াতে ইসলামীর নায়েব আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ক্ষেত্রে, যিনিও সংসদ সদস্য ছিলেন।   এর আগে ইমরান বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,“সম্প্রতি একটি বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যে ইতোমধ্যে তার পরিবারের সদস্যরা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন।  “সে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। তার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক লবিংও যথেষ্ট শক্তিশালী। এই বিষয়গুলো রায়ের ক্ষেত্রে আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে কি না- এ বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ ও শঙ্কার অবকাশ আছে।”  আগেও বিভিন্ন সময় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করতে সালাউদ্দিন কাদেরের চেষ্টার ঘটনাগুলো তুলে ধরে ইমরান বলেন, “তার এই রায়কে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব মানুষকে আমি রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই হবে সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব।”  ইমরান বলেন, “এ পর্যন্ত যতজন যুদ্ধাপরাধীর বিচার এবং সাজা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাকা চৌধুরী সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস। সাকা চৌধুরীর নেতৃত্বেই একাত্তরে চট্টগ্রামে গণহত্যার মহোৎসব চলে। একাত্তরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে যত যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, তার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত।”  একাত্তরে চট্টগ্রামের রাউজানে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা, সুলতানপুর ও ঊনসত্তরপাড়ায় হিন্দু বসতিতে গণহত্যা এবং হাটহাজারীর এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ছেলেকে অপহরণ করে খুনের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।  ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর গ্রেপ্তারের পর প্রায় তিন বছর বিচারের পরিক্রমায় এই রায় হয়। তার ওই রায় আগেই ফাঁস করার অভিযোগেও একটি মামলা রয়েছে, যাতে তার স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী এবং ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী আসামি।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top