রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, ওবায়দুলের স্ত্রী তাসমিন খদিজা সোনিয়াকে (২৬) বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকায় আনা হয়েছে। “এ হত্যাকাণ্ডে সোনিয়ার প্রেমিক সাইফুল্লাহ ওরফে রুবেল ও পাপ্পু নামে তার এক ভাগ্নেকে খোঁজা হচ্ছে।” রুবেলের দুই ভাগ্নে মাহমুদুর হাসান মিঠু ও তানভীর আহমেদকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মাশরেকুর রহমান জানিয়েছেন। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোনিয়া ও রুবেলের পরিকল্পনায় ওবায়দুলকে হত্যা করা হয়েছে। রুবেল ও তার দুই ভাগ্নে মিঠু ও তানভীর এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন। “হত্যাকাণ্ডের সময় মটরসাইকেলের সামনে ছিলেন মিঠু, মাঝে রুবেল ও পেছনে তানভীর। তানভীরই ওবায়দুলের কাছ থেকে তার ল্যাপটপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়ে মাথা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। “মিঠু বসুন্ধরা সিটি শপিং মল থেকে ওবায়দুলকে অনুসরণ করেন। বিভিন্ন সময়ে টেলিফোনে সে অন্যদের ওবায়দুলের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য দিতে থাকেন।” ওবায়দুল হক (ফাইল ছবি) ওবায়দুল হক (ফাইল ছবি) গত ২৬ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সার্কুলার রোডের বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান থানার কাছে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ওবায়দুল। পরে রাতে আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় । ওবায়দুল যে রিক্সায় করে বাসায় ফিরছিলেন সেই রিকশার চালক আহত অবস্থায় তাকে থানায় নিয়ে আসেন। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওবায়দুল চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম বিএসসির মালিকানাধীন সানোয়ারা গ্রুপের ড্রিংকস অ্যান্ড বেভারেজ (কোয়ালিটি আইসক্রিম) ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক ছিলেন। পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ছিল তার অফিস। পিতৃহীন ওবায়দুল মামার প্রতিষ্ঠানে চাকরি ছাড়াও সার্কুলার রোডে তার বাড়িতেই থাকতেন। ওবায়দুলকে হত্যার রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই। হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গিয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে রুবেলের দুই ভাগ্নে মিঠু ও তানভীরকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক দীপক কুমার দাস জানান, প্রথমে ঢাকা থেকে মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পাবনা থেকে তার ভাই তানভীরকে ধরা হয়। পরে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর দুজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে আইন বিভাগে (স্নাতক) পড়ার সময় চট্টগ্রামের মেয়ে সোনিয়ার সঙ্গে চাঁদপুরের ছেলে রুবেলের প্রেম হয়। দুই পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে ওবায়দুল হক ও সোনিয়ার বিয়ে হয়। “বিয়ের পরেও সোনিয়া ও রুবেল নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। সম্পর্কের এক পর্যায়ে তারা ওবায়দুলকে হত্যা করে ঘটনাকে ছিনতাই বলে চালিয়ে দিয়ে পরে নিজেরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন,” বলেন এক কর্মকর্তা। সোনিয়াই তার মামাকে অস্ত্র কেনার টাকা সরবরাহ করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তানভীর বলেছে বলে জানান উপকমিশনার মাশরেকুর। তিনি বলেন, “সোনিয়া ও রুবেলের পরিকল্পনায় ওবায়দুলকে হত্যা করা হয়। রুবেল ৬০ হাজার টাকায় অস্ত্র কিনে তার তিন ভাগ্নেকে ওবায়দুলকে হত্যা করতে অনুরোধ করে। “কোনো টাকার বিনিময়ে নয়, মামার ভালোবাসার মানুষকে তার কাছে ফিরিয়ে দিতেই তারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।” ‘ওবায়দুলের স্ত্রী, তার প্রেমিক ও ভাগ্নেরা এ হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করে একে নিছক ছিনতাই বলে প্রচার করতে চেয়েছিলেন’-মন্তব্য করে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাশরেকুর বলেন, হত্যাকাণ্ডের পরপরই তিন ভাগ্নেকে নতুন মোবাইল সিম কেনার পরামর্শ দিয়েছিলেন রুবেল। তবে বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের ভিডিওফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শুনে পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। “বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে পাওয়া সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, রাতে ওবায়দুল মার্কেট থেকে বের হওয়ার পরই তাকে নজরে রাখছিল মিঠু। ফোনে তাকে কথা বলতেও দেখা গেছে।” উপকমিশনার মাশরেকুর রহমান বলেন, ওবায়দুল খুন হওয়ার পর শ্বশুর বাড়িতেই ছিলেন সোনিয়া। “তবে গোয়েন্দারা হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি চট্টগ্রামের ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে জ্বর নিয়ে ভর্তি হন। পুলিশ চট্টগ্রামে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে আশঙ্কায় হাসপাতাল থেকেও পালিয়েছিলেন তিনি।” রুবেল ও তার অন্য ভাগ্নে পাপ্পুকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাশরেকুর।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook