রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে দিনরাত চলছে রমরমা নারীদেহ বানিজ্য। প্রশাসনের চোখের সামনে এসব চললেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন রয়েছে নিরব। সিলেট নগরীর লালবাজার, বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, কদমতলী, আম্বরখানা, স্টেশনরোড, লালদিঘীপার, দরগাহ গেইট, সুরমা মার্কেট, শাহপরান, তালতলা, টার্মিনাল রোড, রেলগেইট, এলাকার অন্তত ৫৫টি আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই চলে নারীদের দেহ খেলা। আর এসব ব্যবসাকে ঘিরে প্রশাসনের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মকর্তা, কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা রাতারাতি আংগুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন। পাশাপাশি সহজ সরল মেয়েদের দেহ ব্যবসায় বাধ্য করানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ হোটেলের কর্মকর্তা কর্মচারী। দেহ ব্যবসায় জড়িত কয়েকজন মেয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের জীবনের করুণ কাহিনী। এদের অনেকেই জানান, অভাবের তাড়নায় তারা এসেছেন এই পেশায়। আবার অনেকে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়েছেন এসব কাজে। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, হোটেল কর্মকর্তা আর দালালরা তাদের এমনভাবে ব্যবহার করেছে তারা এখন আর এই পেশা ছাড়তে পারছে না। হোটেল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এসব হোটেল থেকে প্রতিমাসে থানা পুলিশ পাচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এছাড়াও স্থানীয় ক্ষমতাসীনরাও পেয়ে থাকেন সাপ্তাহিক, মাসিক চাদা। সূত্র আরো জানায় আবাসিক হোটেল মালিকরা এ খাতে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে থাকে। টাকা দিয়েই প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও রহস্যজনক কারনে প্রশাসন রয়েছে নিরব। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো দু’একটি অভিযান চালানো হলেও তা আই ওয়াশ ছাড়া আর কিছুই নয়। শূধু এসব হোটেল নয় নগরীর উচ্চ লেভেলের হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলোতেও চলছে সমান তালে দেহব্যবসা। যৌনকর্মীরা জানায়, আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার ও বয়-বেয়ারা নির্দিষ্ট কমিশনের ভিত্তিতে খদ্দের যোগাড় করে দেয়। পেশাদার যৌনকর্মীরা অবশ্য নিজেরাই কার্ড বিলি করে। এসব কার্ডে সাধারণত মধ্যস্থতাকারীর মোবাইল নম্বর থাকে। এসব হোটেল ছাড়া ও নগরীর পার্ক, রেষ্টুরেন্ট, আবাসিক এলাকায় রয়েছে উচ্চ লেভেলের যৌনকর্মীদের আনাগুনা। নগরীর জিন্দাবাজার, উপশহর, শিবগঞ্জ, কদমতলী, আম্বরখানা, মোটেল এলাকায় এসব তৎপরতা বেশি। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রত্যেকটি আবাসিক হোটেল ও মোটেলের সামনে প্রতিদিন অবস্থান করে দালাল চক্র। টার্গেট করা পথচারীদের তারা ধরিয়ে দেয় ভিজিটিং কার্ড। আর এভাবেই খদ্দেররা পৌছে যায় যৌনকর্মীদের কাছে। সচেতন মহলের আশংকা এসব অপকর্মের বিরোদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হলে সিলেট নগরী বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের মুখে পড়তে পারে। এসমএমপি’র উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) ফয়সল মাহমুদ জানান, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে যথাযথ আনইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook