0

news_picture_21858_photo-innerরিপোর্টার্স বিডি ডট কম : ঈদ এলে প্রতিটা ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় । প্রতিটা ব্যাক্তি কাছের মানুষদের নিয়ে ঈদ উৎসবে মেতে ওঠে। খোকা-খুকু গেয়ে ওঠে ঈদের গান। ধনী-গরীব সব এক কাতারে মিলিত হয়। নারির টানে শহর ছেড়ে সকলেই ছুটে যায় নিজ জন্মভূমিতে। সংগীত তারাকারাও এর ব্যতিক্রম নয়। এমন কিছু সংগীত তারকাদের শৈশবের ঈদ স্মৃতি তুলে ধরেছেন আমাদরে বিনোদন প্রতিবেদক । রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা: অতীত সর্বদাই মধুর স্মৃতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। স্কুলের পড়া পড়তে পড়তে হটাৎ শিক্ষক বললেন ছুটি, কি? না এক মাসের ছুটি রোজা ও ঈদের ছুটি। আহ, এর চেয়ে পরম শান্তির আর কি হতে পারে। আবার একমাস সহপাঠীদের দেখবো না অথবা মোটামুটি হোমওয়ার্ক এগুলো একটু অসস্তিকর হয়ে দাড়াত। বড়দের সাথে আমিও রোজা থাকবো। বাড়ির অন্য সবাই আপত্তি করলেও মা আপত্তি করতেন না। ভোর রাতে গরম ভাত রেধে গরম গরম সেহরি আর সারা দিন হোমওয়ার্ক করিনা, করি ইফতারির জন্য অতি আবশ্যক অপেক্ষা। সাইরেন বাজার সাথে সাথেই শান্তি। ঈদের বাড়তি পাওনা ছিল বাবার হাতের সেলাই করা জামা। ডিজাইনও তার করা। তার মেশিন, তার স্কেল-ইস্ত্রি, চক, সঙ্গে টেবিলল্যাম্প মনে হত একটা নিঝুম স্টেশনের প্লাটর্ফম। জামা সেলাই হচ্ছেতো ট্রেন কাছে আসছে, আসছেতো আসছে, থামছে না। ও আব্বা তারাতারি করেন প্লিজ। না, ট্রেন আর চলবে না। কেন ? তেল চাই। রং চা । কমলা সোনালী চা যেন তরল সোনা। তার বিনিময়ে আব্বা আবার চলেন। জামার হাত জুড়তে থাকা সুক্ষ্ম চাঁদের রুপালী জালে হেম-রান এইতো বোতামটাও জুড়ে গেল। শুধু গায়ে গলিয়ে দিলেই আমাকে আর আমার দুই বোনকে পায় কে? আমাদেরই তো ঈদ। জামার বাড়তি কাপরের টুকরো গুলো ভিষন সাবধানে লুকিয়ে রাখাটাও বাড়তি আনন্দ। আমার জামা ও আমি এক সঙ্গে উদ্ভাসিত হব রেডি ওয়ান- টু -থ্রী । আহা সেখানেই যদি থেমে যেতাম । থামা যায় না। জীবন চলতেই থাকে। জীবন যে সিন্দাবাদের বুড়োর মত গলায় ক্রস এটে ঘারে বসে, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার জো-ই নেই, যদি কোন দুর্ঘটনায় না পরা যায়। রোজ বছর রোজা আসে ঈদ হয়। বড় হই। একটু একটু বুঝতে পারি। মধ্যবিত্ত সংসারের সৎ সরকারী কর্মকর্তার কন্যাকে অল্প বয়সেই অনেক কিছু বুঝতে হয়। আব্বা বলেন মাগো, ঈদ আমার জন্য অভিশাপ। থমকে যাই এত বড় রহমতের মাস পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েমরত বাবা আমার এত বড় বেরহমতের কথা বললেন। কিন্তু সমাজ ও ধর্ম যে মেলানো যায় না। এখানে সারা মাস বাড়তি ইফতারি, সেহরি ও বাড়তি ঈদ একই খরচে চালাতে হয়। যা বোনাস হয় তা পিপড়ায় খায়। বিষ পিপড়া। আড়তদার ব্যবসায়ী। তারা রোজা বুঝে দাম বাড়ান সেই আশি কালের বাসি আমল থেকেই। তাতেই আমার ধর্ম প্রান মা-বাবা তাদের ওপর নাখোস হয়েই এমন উক্তি করেন। আব্বা-আম্মাকে বলি থাক ঈদের জামা লাগবে না। এবার না হয় শুধু ছোট ভাইয়াকেই দেন। মা-বাবার কি তাতে মন মানে । সংগতি রেখে কমদামি কাপড় কেনা হয়। পাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে মেজ বোনের ক্রন্দন কি ? ও বাড়ির বালিসের ওয়ারের কাপড় আর আমাদের ঈদের জামা কাপড় এক। হায় দুঃখ!!!!!!!!!!! এই রকম দুঃখ-আনন্দ মেলাতে মেলাতে ৮২ টা ঈদ পার করে দিলাম।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top