রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : মৌসুমের শুরুতেই উপকূলীয় নদ-নদীতে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রূপালি ইলিশ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ইলিশের সাইজও বেশ বড়। জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞার কারণে ইলিশ পরিপূর্ণ রূপ পেয়েছে বলে উপজেলা মৎস বিভাগ দাবি করছে। সর্বনিম্ন ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি, সোয়া কেজি ওজনেরও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় জেলেদের মাঝে বিরাজ করছে মৌসুমী আনন্দ। একারণে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারসহ আশপাশের হাটবাজারে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। দাম একটু চড়া হলেও ইলিশের স্বাদ পেয়ে ক্রেতারও বেশ খুশি।
অপরদিকে, গত তিন দিনধরে নিম্নচাপ চলায় ইলিশের সমারোহ থাকলেও সাগরে জাল ফেলতে পারছেনা জেলেরা। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে শত শত মাছ ধরা ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলীয় বিভিন্ন নদনদীতে আশ্রয় নিয়েছে। আজ সোমবার সকালে সাগর থেকে কূলে ফেরার সময় ২০ জন জেলেসহ পাথরঘাটা এলাকার দুটি ট্রলার ডুবে গেছে বলে জানা গেছে। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মৎস্য ব্যবসায়ী ও বনবিভাগ এতথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় জেলে ও মাছ বিক্রেতা আ. হালিম খান, মিলন হাওলাদার, ইসমাইল হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্যান্য বছরের তুলানয় বলেশ্বর ও ভোলা নদীতে ইলিশের পরিমান অনেক বেশি। মাছের সাইজও বড়। অন্যান্যবার এইসময় জাটকা ধরা পড়তো। কিন্তু এবার ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজি, সোয়া কেজি ওজনের ইলিশই বেশি। সোমবার সকালে উপজেলা সদর রায়েন্দা মাছের বাজারে গিয়েও তার প্রমান পাওয়া গেছে।
উপজেলা জেলে সমিতির সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী জানান, স্থানীয় নদীতে মৌসুমের শুরুতে যেভাবে ইলিশ ধরা পড়ছে শেষ পর্যন্ত তা থাকবে কীনা বোঝা যাচ্ছেনা। বর্তমানে হাটবাজারে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এখন বাজারে জাটকা নেই বললেই চলে। বড় ইলিশ বিক্রি করে জেলেরাও লভবান হচ্ছে।
উপজেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবর তালুকদার জানান, নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সমস্ত মাছধরা ট্রলার সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে আশ্রয় নিয়েছে। নারকেলবাড়িয়া এলাকায় পাথরঘাটার দুটি ট্রলার ডুবেছে ভলে তারা শুনেছেন। গত ২-৩ দিনের টানা বৃষ্টি ও সাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় নদনদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে বলে তারা ধারণা করছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা খোন্দকার সহিদুর রহমান জানান, জাটকা আহরণে কড়াকড়ি থাকায় ইলিশ পূর্নাঙ্গ রূপ পেয়েছে। জেলেরা আরেকটু সচেতন হলে মানুষ সারা বছরই বড় ইলিশের স্বাদ পাবে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. কামাল আহমেদ জানান, নিম্নচাপের প্রভারে ৩ নম্বর শতর্ক সংকেত চলছে। একারণে সকল মাছধরা ট্রলার সুন্দরবনের কচিখালী, সুপতি, কটকা, নারকেলবাড়িয়া ও দুবলা এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রিত জেলেদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বনরক্ষিদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মংলা) অপারেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আলাউদ্দিন জানান, সাগরে ট্রলার ডুবির ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। প্রচন্ড ঢেউয়ে সাগর থেকে সমস্ত মাছধরা ট্রলার কূলে ফিরে এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook