0

Karmicle-md20150624125439রিপোর্টার্স বিডি ডট কম :  জনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭ বছর আগে বন্ধ হওয়া রংপুর কারমাইকেল কলেজের ৪টি ছাত্রাবাস আজও চালু হয়নি। এতে কলেজের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে ছাত্রাবাসগুলো চালু করা হচ্ছে না।
এদিকে ২০১০ সালে আরো ১ টি করে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও ৫ বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতি বছরেই ছাত্রাবাসগুলো সংস্কার করে পুনরায় চালুর জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকে অবগত করাসহ নতুন হোস্টেল নিমার্ণের বিষয়টি শিক্ষা অধিদফতরে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্রশিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যকার সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসমানী, জিএল, কেবি ও সিএম এই চারটি ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করেন তৎকালীন অধ্যক্ষ দীপকেন্দ্রনাথ দাস ছাত্রশিবিরের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের কারণে সেই সময় ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ৭ বছর ধরে তা বন্ধই রয়েছে।
কলেজে একাদশ শ্রেণিসহ ১৮ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্সের নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ছাত্রীদের জন্য জাহানারা ইমাম, রোকেয়া এবং তাপসী রাবেয়া নামে ছাত্রীনিবাস চালু থাকলেও ৬শ’ আসনবিশিষ্ট ওই তিন ছাত্রীনিবাসে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে ছাত্রীদের। আর ছাত্রাবাস চারটি বন্ধ থাকার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছাত্রদের। বন্ধকৃত ছাত্রাবাস খুলে দেয়াসহ নতুন করে শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী আরো ছাত্রাবাস গড়ে তোলার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।এদিকে ছাত্রাবাসগুলো দীর্ঘ দিন ব্যবহার না করায় বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী এবং জরাজীর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে।
কলেজের অনার্স ইংরেজি (পুরাতন) ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুবুর ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রাবাস না থাকায় বাধ্য হয়ে তাকে বেশি টাকায় ক্যাম্পাসের বাইরে ব্যক্তি মালিকানাধীন মেসে  থাকতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি মাসে ডাবল সিটে ভাড়া সাড়ে ৫শ টাকাসহ অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় আড়াই হাজার টাকার মতো খরচ হচ্ছে যা তার মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বেশ কষ্টকর। এদিকে একাধিক আবাসিক ছাত্র অভিযোগ করেন, অধিকাংশ মেসে বিভিন্ন পেশার  মানুষ থাকায় লেখাপড়ার পরিবেশ নেই বললেই চলে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি আবু রায়হান বক্সি জাগো নিউজকে বলেন, শিবিরের ঘাঁটির অভিযোগে বছরের পর বছর ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ রাখা যুক্তিযুক্ত নয়। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করে তিনি দ্রুত ছাত্রাবাসগুলো চালু করার দাবি জানান।ছাত্রলীগ কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি রাফিউর রহমান রাফি জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রাবাসগুলো শিবিরের ঘাটি হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দেন। কিন্তু বর্তমানে ছাত্রাবাসগুলো সংস্কার না করায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তাই তিনি ছাত্রাবাসগুলো সংস্কার করে আলোচনা সাপেক্ষে পুনরায় চালু করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন।ছাত্রাবাসগুলো বন্ধ রাখার ব্যাপারে কোন চাপ নেই জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ শাহ্ মোকছেদ আলী জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছরেই শিক্ষা অধিফতরকে ছাত্রাবাস সংস্কার করাসহ নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের ব্যাপারে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। এমনকি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরকেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top