0

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ দাবি করেন, সাধারণ ছাত্ররা বহিরাগত শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলার সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ মাধ্যমিকে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন, শিক্ষার মান ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ, গণতান্ত্রিক পরিবেশে ছাত্ররাজনীতি নিশ্চিত করা ও সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রলীগের ভর্তি-বাণিজ্য বন্ধের দাবি জানিয়ে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিছিল বের করে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।

দাবি আদায়ে নেতাকর্মীরা সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে তাদের বাধা দেন এবং ফটক আটকে রাখেন। এ সময় ফটকের সামনেই জোটের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের পাশেই ফটকের সামনে একটি ছোট পিকআপে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিলেন।

অপরদিকে কলেজ ক্যাম্পাসে মিছিল করছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হঠাৎ কলেজের পেছনে কলাভবনের ফটক দিয়ে ছাত্রলীগের ২০-৩০ জন নেতাকর্মী দৌড়ে লাঠি নিয়ে এসে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ছাত্রছাত্রীদের পেটানো শুরু করেন। কয়েকজন পুলিশের পিকআপের এক কর্নারে আশ্রয় নিয়েও রেহাই পাননি। লাঠির আঘাতে আহত হয়ে ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা দৌড়ে প্রাণে রক্ষা পান। হামলায় সময় টেলিভিশনের স্টাফ ক্যামেরাপারসনসহ আহত হন কমপক্ষে ২০ জন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরে লাঠিসোটাসহ হরতালবিরোধী স্লোগান দিয়ে আবার কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন।

এদিকে হামলায় আহত ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার কোনো সিটই খালি নেয়। লাঠির আঘাতে চরম যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তারা। কয়েকজন তাদের জখম হওয়া স্থানে বরফ ও আইসক্রিম দিয়ে যন্ত্রণা লাঘবের চেষ্টা করছিলেন।

এ ব্যাপারে তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ বলেন, আমি আপনাদের বলতে চাই, এখানে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। আমরা যারা ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব করি, আমরা সবাই ভেতরে ছিলাম। ভেতরে আমাদের প্রোগ্রাম ছিল। আপনারা জানেন, আমাদের কলেজের অধ্যক্ষের আদেশ আছে, এখানে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষেধ। যারা বহিরাগত, তারা তো এ রকম মিছিল নিয়ে, বা এ রকম মারামারি, হৈ চৈ করে ভেতরে ঢুকতে পারে না। আর তোলারাম কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সব সময় সেই ভাষা আন্দোলন থেকে সব সময় সোচ্চার। তারা কখনোই এই বহিরাগতদের মেনে নেবে না। আমাদের এখানে কোনো দায়িত্ব ছিল না। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা হয়তো তাদের প্রতিরোধ করেছে। ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। এখানে আমাদের কোনো কথা নেই।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা বলেন, প্রগতিশীল ছাত্রজোট বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিতে আসে। তখন তারা একটু স্লোগান দেয়। আর ছাত্রলীগের পোলাপান হরতালবিরোধী মিছিল করেন। এখানে এই ঘটনা ঘটে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top