নিউজ ডেস্ক::
নাম তার আব্দুল হাই। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ হিসেবে কর্মরত। কিন্তু চারমাস ধরে কোনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন আব্দুল হাই। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
ঘিলাছড়া ইউনিয়ন গ্রামপুলিশের দফাদার আব্দুল হাই জানান, তার অধীনে আরো ৬ জন গ্রামপুলিশ কাজ করেন। বিগত চারমাস ধরে তারাও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে বড় কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়েছে।
আব্দুল হাইয়ের সঙ্গে আলাপকালে বেরিয়ে আসে বাস্তবতায় করুণ কিছু চিত্র। তিনি জানান, গ্রামপুলিশের দফাদাররা প্রতি মাসে ২ হাজার ১০০ টাকা বেতন পান। এছাড়াও মহল্লাহদার মাত্র ১ হাজার ৯০০ টাকা বেতন পান। আর এ টাকা দিয়েই তাদের সারা মাস চলতে হয়। কিন্তু অভাবের সংসারে এ টাকায় কিছুই হয় না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমনিতেই আমাদের বেতন অনেক কম। তারপরও চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। সারা মাস দোকান থেকে বাকি মাল কিনে বেতনের টাকায় তা পরিশোধ করে থাকি। কিন্তু চারমাস ধরে বেতন না পেয়ে দোকানীদের কাছে অনেক দেনা জমে গেছে। দোকানীরাও এখন আর বাকি দিচ্ছে না।’
এদিকে প্রতি মঙ্গলবার থানায় হাজির হয়ে খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে আসতে হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘থানায় আসা যাওয়ার বাবদ ১০০ টাকা খরচ হয়। সেটাও কর্জ করে নিতে হচ্ছে। তিনি।
শুধু আব্দুল হাই নয়, তার মতো উপজেলার ২২ জন গ্রামপুলিশের অবস্থা একই। আব্দুল হাইয়ের মতো তারাও বেতন না পয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এমনটাই জানিয়েছেন ১ নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মহল্লাহদার মো. ফুলু মিয়া।
মঙ্গলবার বিকেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েও তিনি বলেন, ‘আগে ডাচ্ বাংলা মোবাইল ব্যাংকিংকের মাধ্যমে আমাদের বেতন আসত। কিন্তু চারমাস ধরে বেতন আসে না। তাই বিপদে আছি। কবে বেতন পাবেন তাও জানি না।’
জানা গেছে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে ২২ জন গ্রাম পুলিশ আছেন। এর মধ্যে ১ নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে ৫ জন, ২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদে ১০ জন ও ৩ নং ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদে ৭ জন।
ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা তথ্য বাতায়ন থেকে জানা গেছে, ১ নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে মো. বাবুল মিয়া, মো. রজু মিয়া, মো. জামাল মিয়া, মো. ফুলু মিয়া ও মো. লুতু মিয়া গ্রামপুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। ২নং মাইজগাঁও ইউনিয়নে হরেন্দ্র কর, আশু কর, ফাতির আলী, সাধন কর, নির্মল দাস, নিপেন্দ্র বিশ্বাস, বিপ্লব চক্রবর্ত্তী, অমল দাস, বিজেন্ত মালাকার, জবাকর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঘিলাছড়া ইউনিয়নে বাকি ৭জন কাজ করেন। তার হলেন- আব্দুল হাই, হিনেন্দ্র কুর্মী, রিপন মিয়া, আব্দুর রব, মজনু মিয়া, সুকুময় বিশ্বাস ও মকদ্দছ আলী।
এদিকে, চারমাস ধরে ২২ গ্রামপুলিশের বেতন বন্ধের কথা স্বীকার করেছেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সানোয়ারুল হক।
তিনি বলেন, ‘স্থানী ইউএনও না থাকার কারণে সমস্যাটা হয়েছে। নতুন ইউএনও যোগদান করেছেন। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান করা হবে।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook