ঐতিহ্যবাহী রক্ষণশীল ক্যাথলিক দেশ হিসেবে পরিচিত আয়ারল্যান্ডে কার্যত ‘সমকামী বিপ্লব’ ঘটে গেল।
মাত্র দুই দশক আগেও দেশটিতে সমকামিতা ছিল অপরাধ। অথচ শনিবার এক গণভোটে সমকামিতা বা পুরুষে-পুরুষে এবং নারীতে-নারীতে বিয়ের পক্ষে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
‘ইয়েস’ নামের এই ভোটের পর দেশটির সংবিধান সংশোধন করে এখন সমকামী বিয়েকে বৈধতা দেয়া হবে।
গণভোটের এই রায় চমকে দিয়েছে অনেককেই। আয়ারল্যান্ডের ক্যাথলিক সমাজ সব সময় দূরে সরিয়ে রেখেছে সমকামী বিয়ে বা গর্ভপাতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে। ক্যাথলিক ধর্মবিশ্বাস মতে, সমকামিতা পাপ। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে সমকামিতা ছিল আইনত অপরাধ। ২০১০ সালে সেনেটে বিল পাস করে শুধু সমকামীদের একসঙ্গে থাকাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু ক্যাথলিকদের চাপে সমকামী বিয়ের বিষয়টি আইনগত বৈধতা পায়নি।
আয়ারল্যান্ডের নিবন্ধিত ৬০ শতাংশ ভোটার শনিবার ভোট দিয়েছেন যা দুই দশকের মধ্যে ছিল সর্বোচ্চ।
অনেকেই বলছেন, এই গণভোট আসলে বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতার প্রতিফলন। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোটের লাইনে যাঁদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে, তাদের বেশির ভাগেরই বয়স কুড়ি থেকে তিরিশের কোঠায়।
গণভোটে ইয়েসের পক্ষে বিপুল সাড়ায় ‘আয়ারল্যান্ডবাসী বিশ্বকে নেতৃত্বের আওয়াজ’ দিয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী এন্ডা কেনি।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি রাজ্যে সমকামী বিয়ে বৈধ। তবে এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশেই সমকামী বিয়ের অনুমতি নেই। সূত্র: রয়টার্স
