রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : সিলেটের প্রথম ফুটওভারব্রিজ (পথচারী-সেতু) উদ্বোধনের কথা ছিল জুলাইয়ে। কাজ বাকি থাকায় এখনও হয়নি। তার আগেই সেটিকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ‘দখলে’ রাখার লড়াই শুরু হয়েছে। নির্মাণাধীন ঐতিহ্য-স্মারকটির মুখ ঢেকে আছে নেতাকর্মীর ‘বিজ্ঞাপনে’। এমনটা চলতে থাকলে, শোভার চেয়ে এটি বিজ্ঞাপনের ‘বাগাঢ়ে’ পরিণত হবে বলে মত নগরবাসীর। সরেজমিনে নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজার পয়েন্টে (কোর্টপয়েন্ট) নির্মাণাধীন এই সেতুটি ঘুরে দেখা যায়, এখন সেখানে শোকাবহ আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ সরকার সমর্থকদের বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলছে। এর আগে ঈদ, সদ্য নির্বাচিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ঝোলানো হয়েছিল। তার কোনো কোনোটি শোকের মাসেও সেই ‘শুভেচ্ছা’ জানিয়ে যাচ্ছে। এসব ব্যানার-ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর সচিত্র প্রচারণা রয়েছে। আছে, সরকারের নানা উন্নয়নকর্মের বিবরণও। সিটি করপোরেশন এলাকায় এভাবে প্রচারণার জন্যে নগর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার বিধি থাকলেও এসব ক্ষেত্রে তার তোয়াক্কা করা হয়নি। সিটি করপোরেশন বলছে, নির্মাণাধীন এই ব্রিজকে নিজেদের প্রচারণায় ব্যবহার করার জন্যে কাউকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ‘বিজ্ঞাপনের’ মাধ্যম হিসেবেও এটি নির্মাণ হয়নি। এ বিষয়টিকে ‘নিম্ন রুচির মানসিকতা’ আখ্যা দিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘কোনো শুভবোধ ও রুচিশীল মানুষ এ রকম আত্মপ্রচারণায় মেতে উঠতে পারেন না।’ কাজটি ‘ঠিক নয়’ মন্তব্য করে সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বলেন, আমি এটা দেখিনি। তবে যারা এমনটা করেছেন তারা ঠিক করেননি। এইভাবে সিটি করপোরেশনের গাফিলতি রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে তারা যথাযথ পদক্ষেপ নিলে এমনটা হত না। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা সূত্র জানায়, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবেই এটি নির্মাণ হচ্ছে। বিগত মেয়াদে (২০০৯-২০১৪) এটি নির্মাণের কথা থাকলেও তখন শুরু করা যায়নি। এইবার অর্থমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এটির নির্মাণ করাচ্ছেন। এতে ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। তৈরি করছে চট্টগ্রাম ড্রাইডক কোম্পানি। ২০ মে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওই সময় এটি চলাচলের জন্যে উদ্বোধনের মেয়াদ ধরা হয়েছিল জুলাই। খোজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটে প্রথমবারের মতো নির্মাণাধীন এ পথচারী-সেতুটির প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুতে হাতল স্থাপনের পাশাপাশি কিছু ঝালাই ও রং দেওয়ার কাজ বাকি। এটি শেষ হলেই উদ্বোধনের দিন চূড়ান্ত হবে। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এটা শেষ করে মাসখানের মধ্যেই উদ্বোধন করা যাবে। সেতুটিকে ‘বিজ্ঞাপনের’ মাধ্যমে পরিণত করাটা দুঃখজনক মন্তব্য করে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন এসব লাগাতে কাউকে অনুমোদন দেয়নি।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook