রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সম্পাদিত কাজ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পোরেশনের সম্পাদিত সদ্য সমাপ্ত তিনটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী। সম্পাদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে ভোলানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, হলদিছড়ায় আরসিসি বক্স কালভার্ট-আরসিসি ইউটাইপ ড্রেন এবং কদমতলী সড়ক আরসিসিকরণ ও ইউটাইপ ড্রেন নির্মান প্রকল্প। একইদিন তিনি কাজিরবাজার সেতুও পরিদর্শন করেন। দুইপাশের রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই কাজিরবাজার সেতুর উদ্বোধন করা হবে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি প্রথমে সকাল ১১টায় সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় ভোলানন্দ নৈশ বিদ্যালয়ের ৪ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের উদ্বোধন করতে আসেন। এসময় তাকে স্বাগত জানান সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব। পরে ফলক উন্মোচন করে অর্থমন্ত্রী নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মহানগর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: ইলিয়াছুর রহমান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক বকস, সংরক্ষিত ৬ মহিলা আসনের কাউন্সিলর শাহানারা বেগম, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. রেজাই রাফিন সরকার, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নুর আজিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবরসহ সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। লাইসেন্স কর্মকর্তা চন্দন দাশের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা শফিকুর রহমান। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৪৩ হাজার ২শ ৮৫ টাকা। অর্থমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে ২০১২ সাল থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। বেলা পৌনে ১২ টায় অর্থমন্ত্রী কদমতলী-শিববাড়ী সড়ক আরসিসিকরণ ও ইউটাইপ ড্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি সিটি কর্পোরেশন সম্পাদিত কাজে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন নাগরিকদের স্বার্থে এসব উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করছে। এক্ষেত্রে নাগরিকদেরও অনেক দায়িত্ব আছে। এসব সম্পাদিত উন্নয়নমূলক কাজ রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের উপর বর্তানো উচিত নয়, এসব রাস্তাঘাট ড্রেন যাতে নষ্ট না হয় নাগরিকরাও সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’ দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হওয়ায় এসময় স্থানীয় এলাকাবাসী, স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এসময় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৌফিক বকস, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো: আব্দুল জলিল নজরুল, প্যানেল মেয়র (৩) ও সংরক্ষিত ৯ আসনের কাউন্সিলর এডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১২-১৩ অর্থবছরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা যা সিডিএমপি (কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্প থেকে ব্যয় করা হয়। এই প্রকল্পে ১৩৮০ মিটার ড্রেন এবং ৯৯০ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বেলা ১২ টায় অর্থমন্ত্রী হলদিছড়ায় আরসিসি বক্স কালভার্ট-আরসিসি ইউটাইপ ড্রেন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুর রকিব তুহিন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল আহমদ রিপন, সংরক্ষিত ৮ আসনের কাউন্সিলর সালেহা কবীর শেপী, সাবেক কাউন্সিলর মো. শাহজাহানসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় ৭২ মিটার বক্স কালভার্ট এবং ৫৪৪ মিটার ইউটাইপ ড্রেন নির্মান করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি ৫৪ মিটার বক্স কালভার্ট নির্মাণের কারণে শাপলাবাগ ও সবুজবাগের মধ্যে একটি সংযোগ রাস্তাও স্থাপন হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। জায়গা অধিগ্রহনে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা যা সিডিএমপি (কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্প থেকে ব্যয় করা হয় এবং আরসিসি বক্স কালভার্ট ও ইউটাইপ ড্রেন নির্মাণে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা যা সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ব্যয় করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি কোর্ট পয়েন্টে নির্মানাধীন ফুটওভার ব্রিজের কাজ পরিদর্শন করেন। এসময় সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান চলমান কাজ সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। অর্থমন্ত্রী কাজ দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এর আগে অর্থমন্ত্রী বেলা সাড়ে ১১টায় কাজিরবাজার সেতু পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি ব্রিজের নিচের দুইপাশের রাস্তার কাজ তাড়াতাড়ি সম্পন্নের জন্য সওজ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, দুইপাশের রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই কাজিরবাজার সেতুর উদ্বোধন করা হবে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook