রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : আমানুর রহমান, ঢাকা: ইস্কাটনের জোড়া খুনের ঘটনায় আওয়ামী লীগের মহিলা সাংসদ পিনু খানের ছেলে বখতিয়ার আলম রনি কে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়েও পুলিশ তার কাছ থেকে তথ্য আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। তার জবানবন্দি করানোর জন্য পুলিশের সকল প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। তার দুই বন্ধুর আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে স্পষ্ট যে রনি গুলি করে ওই দুইজনকে হত্যা করেছে। লাশের শরীরে থাকা বুলেট রনির রিভালবারের তাও প্রামানিত। কিন্তু তারপরও রনির মুখ থেকে কোনো তথ্য আদায় করতে পারছে না পুলিশ। ইতিমধ্যে রোববার তৃতীয় দফায় রিমান্ড চাইলেও আদালত তা শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। প্রশ্ন হচ্ছে তৃতীয় দফার রিমান্ডে কি রনির মুখ খুলতে পারবে পুলিশ? রোববার সাংসদপুত্র বখতিয়ার আলম রনিকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নিতে পুলিশের আবেদনের শুনানি আগামী ৩০ জুন ধার্য করেছেন আদালত। সকালে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে রনিকে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল হকের আদালতে হাজির করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আদালতে রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু আদালতে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন না করতে পারায় আগামী ৩০ জুন রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করা হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে শুনানির দিনে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সিডি) উপস্থাপন করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে ২৪ জুন সাংসদ ও মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খানের ছেলে রনিকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি। ৯ জুন রনিকে প্রথম দফায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। দুই দফা রিমান্ডে পুলিশকে কোনো তথ্য দেয়নি রনি। রনি মুখ না খুললেও প্রমাণে কোনো বাধা দেখছেন না বলে মন্তব্য করেছিলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, যে তথ্য প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে, তা যথেষ্ট। রনি জবানবন্দি না দিলেও মামলা প্রমানে কোনো সমস্যা হবে না। এদিকে, ছেলে রনিকে জোড়া খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করার পর থেকেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতাদের কাছে ছুটেছিলেন পিনু খান এমপি। প্রথমদিকে একাধিক নেতা তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও সেই নেতারা এখন মূখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নেতারা পুলিশ কর্মকর্তাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের প্রতি এই নির্দেশনার পরই পিনু খানের প্রাডো গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে জোড়া খুনের ঘটনায় পিনু খানের পুত্র রনির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশ ও আদালতে তিনজনের দেওয়া জবানবন্দি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল গভীর রাতে নিউ ইস্কাটন রোডে প্রাডো গাড়ি থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বখতিয়ার এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে রিকশাচালক আবদুল হাকিম ও দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার অটোরিকশাচালক ইয়াকুব আলী আহত হন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ এপ্রিল হাকিম এবং ২৩ এপ্রিল ইয়াকুব মারা যান। এ ঘটনায় ১৫ এপ্রিল রাতে রমনা থানায় মামলা করেন হাকিমের মা মনোয়ারা বেগম। এ ঘটনায় ৩১ মে বখতিয়ার ও তাঁর গাড়িচালক ইমরান ফকিরকে গ্রেফতার করে ডিবি।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook