রিপোর্টার্স বিডি ডট কম : পটুয়াখালী পৌরসভার নতুন সীমানা নির্ধারণ করে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত প্রস্তাব পত্র আকারে গত ১১ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বর্ধিত করা এলাকার মৌজা, জেএল, সিট ও দাগ নম্বরসহ প্রস্তাবিত এলাকার ম্যাপ সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হচ্ছে বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নতুন প্রস্তাবিত সীমানার মধ্যে জৈনকাঠী, কালিকাপুর ও ইটাবাড়িয়া ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পৌরসভার বর্তমান সীমানার মধ্যে এখনও অধিকাংশ এলাকায় উন্নয়নের ছাপ না পরায় এবং এসব এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় পৌরসভার সীমানা বাড়ানোকে অনেকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছেন না। এ অবস্থায় এখনই সীমানা না বাড়িয়ে দেশের পুরাতন জেলা হিসেবে পটুয়াখালীকে সিটি করপোশেন ঘোষণার দাবি পৌরবাসীর।
তবে পৌর নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহলের এটি কৌশল হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। কারণ সীমানা বাড়ানো বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রকাশের পর তারা আদালতের দ্বারস্থ হলে ঝুলে যেতে আগামী ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচন। এ অবস্থায় বর্তমান পৌর পরিষদ ও নতুন অন্তর্ভুক্ত করা তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এসব পরিষদে কারা দায়িত্ব পালন করবেন এ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেবে।
বলা বাহুল্য, মামলা করে নির্বাচন স্থগিত করার নজির দেখা গেছে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার ক্ষেত্রেও। দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের সীমানা জটিলতার কারণে ১১ বছর ধরে পদে বহাল থেকে এমনই দৃষ্টান্ত দেখিয়েছিলেন এক চেয়ারম্যান।
প্রস্তাবিত সীমানায় রয়েছে জৈনকাঠী ইউনিয়নের কেশবপুর মৌজার জেএল ৮৬ এর ২নং সিটের ২০০১ থেকে ৩৫১১ দাগ পর্যন্ত এবং ৫নং সিটের ৭০০১ থেকে ৮০৬৭ দাগ পর্যন্ত। কালিকাপুর ইউনিয়নের বহাল গাছিয়া মৌজার জেএল ৮৪ এর ১নং সিটের ১ থেকে ১০৮৬ দাগ এবং ২নং সিটের ৩০০১ থেকে ৩৭৭৩ দাগ পর্যন্ত। একই ইউনিয়নের ডিবুয়াপুর মৌজার ৮৩ নং জেএল এর ১নং সিটের ১ থেকে ৬২০ দাগ পর্যন্ত। এ ছাড়া পূর্ব হেতালিয়া মৌজার ৮২নং জেএল এর ১নং সিটের ১ থেকে ১০৭৯ দাগ পর্যন্ত। ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর মৌজার ৩৯নং জেএল এর ১নং সিটের ১ থেকে ৪৬২ দাগ পর্যন্ত এবং ২নং সিটের ৫০১ থেকে ১২৫৪ দাগ পর্যন্ত। শারিকখালী মৌজার জেএল ৫০ এর ১নং সিটের ১ থেকে ৯৮৮ দাগ এবং বল্লব মৌজার জেএল ৪৯ এর ১নং সিটের ৩ থেকে ৩৫৮ দাগ পর্যন্ত।
তবে এসব এলাকা পৌরসভার মধ্য অন্তর্ভুক্ত করা হলে তিনটি ইউনিয়নের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিবে। পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির পর জৈনকাঠী ইউনিয়নে বাকি ৬ টি ওয়ার্ড, কালিকাপুর ইউনিয়নে ৫ টি ওয়ার্ড এবং ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ টি ওয়ার্ড মিলে ইউনিয়নের পুনর্গঠন কীভাবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জৈনকাঠী ও ইটবাড়িয়া এলাকার অধিকাংশই বড়ো নদী বেষ্টিত বিধায় সীমানা নিয়ে সমস্যা দেখা দিবে। নতুন করে পৌর সীমানার মধ্যে ওই তিন ইউনিয়নকে আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে এ ঘটনার প্রতিবাদে ঈদের পর আন্দোলনে নামতে পারেন এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বাররা।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক খান মোশারেফ হোসেন বাংলামেইলকে বলেন, ‘পটুয়াখালী পৌরসভা বর্ধিতকরণের পক্ষে আমরা নই। যদি করতে হয় সেটা সময় নিয়ে যুক্তি সংগত এলাকা নিয়ে বর্ধিত করা উচিত। কারো ভোট ব্যাংক বর্ধিত করতে নয়। সীমানা বর্ধিত করণের নামে কুচক্রি একটি মহল পৌরনির্বাচনকে প্রলম্বিত করতে চায়। কিন্তু আমরা তা চাইনা।’
পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর বাংলামেইলকে বলেন, ‘পটুয়াখালী পৌরসভার সীমানা বাড়ানোর প্রস্তাবের বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে কেউ জানে না। এমনকি সরকার দলীয় নেতাদের উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও পটুয়াখালী পৌরসভা যোগসাজসে এটা করছে। যাতে সাধারণ মানুষের সমর্থন নেই। তাই নির্বাচনকে সমানে রেখে এটা আমরা চাই না।’
তবে পটুয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তারিকুজ্জামান মনি বলেন, ‘বর্তমান সীমানা বাড়ানোর ফলে পটুয়াখালী সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ইউনিয়ন ভেদে ৫ টি থেকে ৭ টি ওয়ার্ড প্রস্তাবিত সীমানার মধ্যে রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে ওই সব ইউনিয়নের বাকি ওয়ার্ডগুলির নির্বাচন প্রক্রিয়া কী হবে? যখন বর্ধিতই হচ্ছে সে ক্ষেত্রে শহরের পশ্চিমে পায়রাকুঞ্জ, কালিকাপুর ইউনিয়ন পুরো নেয়া যেত। কিন্তু তা না করায় ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে সঙ্কট তৈরি হবে। আর যে সব এলাকা নেয়া হয়েছে তা বিএনপি সমর্থিত ভোটার এলাকা। তাতে আওয়ামী লীগের কি লাভ হবে?’
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আবুল কালাম মৃধা বলেন, ‘আমি ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড থেকে একক মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দেয়ায় বর্তমান মেয়র ভয় পেয়ে তার নিজস্ব এলাকা জৈনকাঠীকে পৌরসভার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছেন। এটি কোনো অবস্থাতেই ঠিক হবে না। পৌরসভার সীমানা বাড়ানো হলে সব দিকেই বাড়ানো উচিত।’ আর আগামী পৌরসভার নির্বাচনকে পেছানোর জন্য পরিকল্পিত ভাবে এটি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার বাংলামেইলকে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রশাসনিক ভাবে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কোন কোন এলাকা বর্ধিতকরণের প্রস্তাবে আছে তা আমি ঠিক এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।
এদিকে, পটুয়াখালী জেলার উন্নয়নের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব আব্দুল মালেকের বাড়ি পটুয়াখালীতে হওয়ায় তার মতামতের ওপরই পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook