রিপোর্টার্স বিডি নিউজ ডেস্ক : সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে ছাত্রলীগে শুরু হয়েছে গ্রুপ পরিবর্তনের হিড়িক। এ সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতারাও বিভিন্ন পদের লোভ দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিজেদের গ্রুপে ভেড়ানোর চেষ্টা করছেন। শিগগিরই সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে দলের একাধিক সূত্র। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের ১০ সদস্যের ও চলতি বছরের ২০ জুলাই মহানগর ছাত্রলীগের চার সদস্যের কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রিয় কমিটি। এরপর ২৫-২৬ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবর্তন আসে কেন্দ্রিয় কমিটিতেও। কেন্দ্রের নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে শিগগিরই সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হতে যাচ্ছে বলে জোর গুঞ্জণ চলছে। ছাত্রলীগের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন খান, শফিউল আলম নাদেল, আজাদুর রহমান আজাদ ও বিধান কুমার সাহা। এর মধ্যে নাসির উদ্দিন খান ও আজাদুর রহমান আজাদ জেলা কমিটিতে এবং শফিউল আলম নাদেল ও বিধান কুমার সাহা মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদগুলো ধরে রেখেছিলেন নিজেদের অনুসারীদের মাঝে। তবে এবার এ ধারা ভেঙে মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে ভাগ বসিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। নিজের নিয়ন্ত্রণে ছাত্রলীগের নতুন গ্রুপ সৃষ্টি করে দখল নিয়েছেন মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ। এছাড়া মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক পিযুষ কান্তি দেও সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দখলে নেন তার গ্রুপে। ফলে এতোদিন ধরে কমিটির শীর্ষ পদের অংশীদার আওয়ামী লীগ নেতা বিধান কুমার সাহার গ্রুপ অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ছাত্রলীগে নতুন করে দুইটি গ্রুপ সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে হিসেব কষতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কাঙ্খিত পদ পেতে তারা শুরু করেছেন গ্রুপ বদল। তবে প্রথমবারের মতো ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের দায়িত্ব নিয়ে মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পদ দখলে নেয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসাদ উদ্দিন আহমদ গ্রুপ। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের প্রভাব থাকতে পারে এমন সম্ভাবনা থেকে অনেক নেতাকর্মী তার নিয়ন্ত্রণাধীন ছাত্রলীগের গ্রুপে যোগ দিতে শুরু করেছে। গ্রুপ পরিবর্তনের ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সামাদ জানান, যারা এই ধরনের গ্রুপ পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত এবং পদের আশায় ছাত্রলীগ করে তাদের চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে। পদ প্রাপ্তির বিষয়ে এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের মানসিকতার কর্মীদের পদ না দিয়ে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger Facebook