0

11757রিপোর্টার্স বিডি ডট কম :  কিশোর সামিউল আলম রাজন হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ পৈশাচিক নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় শুরু হয় দেশব্যাপী। পুলিশ বাদী হয়ে নগরীর জালালবাদ থানায় মামলা করে।  রাজনকে নির্যাতন করে হত্যা করার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রত্যক্ষদর্শীসহ ১২ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তন্মধ্যে দুই প্রত্যক্ষদর্শীসহ আটজন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।  গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কামরুল ইসলামের ভাই মুহিদ আলম, তার স্ত্রী লিপি বেগম, শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুছ, আলী হায়দার, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, প্রত্যক্ষদর্শী ফিরোজ, আছমত উল্লাহ ও আয়াজ আলী।  তবে রাজন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সিলেটের সদর উপজেলা শেখপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলাম ঘটনার একদিন পরই দেশ ছেড়ে সৌদি আরব পালিয়ে যান। কিন্তু ঘটনাটি দেশ-বিদেশে আলোচিত হওয়ায় এবং নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ায় কামরুল সৌদি পালিয়ে গিয়েও নিজেকে বাঁচাতে পারেননি।  সৌদি আরবের জেদ্দায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে সৌদি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন তিনি। কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে আটক হওয়ার পরই তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক জানিয়েছেন।  কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিস’ও জারি করা হয়। এ ব্যাপারে গত ২২ জুলাই পুলিশের আইজি এ কে এম শহীদুল হক সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘কামরুলকে ফিরিয়ে আনার জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগের অংশ হিসেবে রেড নোটিস জারি করা হয়। তবে আরো কিছু প্রক্রিয়া বাকি আছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস অবশ্য এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে।’  তবে সূত্রমতে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হলেই কোনো আসামিকে অন্য দেশ থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। এ নোটিসের মাধ্যমে অপরাধী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ ও তথ্য জানা সম্ভব হয়। অপরাধীকে ফিরিয়ে আনতে এক্ষেত্রে উভয় দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি কাজ করে।  গত ১৮ জুলাই সিলেটের সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেয়ালি গ্রামে রাজনের বাড়িতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’  গত ২০ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, ‘অচিরেই কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’ এর একদিন পর, ২২ জুলাই সিলেট সফরে এসে বাদেয়ালি গ্রামে গিয়ে একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘সৌদি আরব থেকে কামরুলকে দেশে ফেরাতে তৎপরতা চলছে।’  কামরুল ইসলামকে দেশে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র তৈরি করে দিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।  সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার কামরুল আহসান জানান, কামরুল ইসলামকে সৌদি থেকে দেশে ফেরানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তাকে দেশে ফেরাতে সব ধরনের কাগজপত্র তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তার অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।  তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।  কবে নাগাদ কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে কামরুল আহসান জানান, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। আইনি প্রক্রিয়াতেই তাকে ফেরত আনা হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন Blogger

 
Top